স্নেহা পাল, মুর্শিদাবাদ : জানুয়ারিতে ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের রহস্যজনক মৃত্যুর খবর ঘিরে বেলডাঙায় অশান্তি ছড়ায়। এই ঘটনায় ৩০ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। এই মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে NIA তদন্ত শুরু হলেও তা ঠেকাতে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যান। তবে আপাতত রাজ্যের সেই চেষ্টা ব্যর্থ।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টে বেলডাঙা হিংসা মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে। রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রাজ্যের আবেদন গ্রহণ না করে আদালত জানিয়ে দেয়, NIA ই এই ঘটনার তদন্ত করবে এবং বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্টেই বিচারাধীন থাকবে।
এর আগে ২৮ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, রাজ্যের করা NIA তদন্ত বিরোধী মামলার নিষ্পত্তি করবে কলকাতা হাই কোর্ট। সেই সঙ্গে NIAকে নির্দেশ দেওয়া হয়, তদন্ত সংক্রান্ত রিপোর্ট হাই কোর্টে জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্ট দেখেই পরবর্তী নির্দেশ দেবে হাই কোর্ট।
এই কয়েকদিনে বেলডাঙা হিংসার ঘটনা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে টানাপোড়েনের মধ্যেই একাধিকবার তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার কলকাতা সিটি সেশনস কোর্টে শুনানিতে NIAর আইনজীবী শ্যামল ঘোষ অভিযোগ করেন, বহরমপুর জেল থেকে ৩৬ জন অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা হয়নি। জেল কর্তৃপক্ষ জানায়, পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী ও গাড়ি না থাকায় অভিযুক্তদের আনা সম্ভব হয়নি।
NIA আরও অভিযোগ করে, আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও রাজ্য পুলিশ কেস ডায়েরি হস্তান্তর করেনি। ফলে তদন্ত এগোনো যাচ্ছে না। মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার তদন্তে সহযোগিতা করছেন না বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
এই সব অভিযোগ শোনার পর বিচারক সুকুমার রায় মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারকে ১২ তারিখের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং রাজ্য পুলিশের তদন্তকারী অফিসারকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। এখন নজর কলকাতা হাই কোর্টের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।


