Aaj India Desk, হুগলি: হুগলিতে এক ডায়গনস্টিক সেন্টার (Diagnostic Center)- এর রিপোর্ট ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, পরীক্ষার রিপোর্টে গুরুতর ভুলের জেরে জন্ম নিয়েছে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত (Thalassemia) এক শিশু। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট প্যাথল্যাবের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীরামপুর এলাকার একটি ডায়গনস্টিক সেন্টারকে (Diagnostic Center) ঘিরে। জানা গিয়েছে, হুগলির এক গৃহবধূ (নাম পরিবর্তিত) অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে ২০২৫ সালের জুন মাসে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করান। সেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল, তাঁর স্বামী থ্যালাসেমিয়ার (Thalassemia) ক্যারিয়ার হলেও তিনি নিজে নন। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দম্পতি মনে করেছিলেন গর্ভস্থ সন্তানের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার আশঙ্কা নেই এবং সেই বিশ্বাসেই গর্ভাবস্থা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় সন্তানের জন্মের ঠিক আগে। আবার পরীক্ষা করানো হলে নতুন রিপোর্টে দেখা যায়, ওই মহিলাও থ্যালাসেমিয়ার ক্যারিয়ার। পরে সদ্যোজাত শিশুর শরীরেও ধরা পড়ে বিটা থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia)। এই ঘটনায় পরিবারে নেমে আসে চরম উদ্বেগ। অভিযোগ ওঠে, প্রথম পরীক্ষার রিপোর্টেই মারাত্মক ভুল ছিল।
পরিবারের তরফে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানানো হয় ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট রেগুলেটরি কমিশন (Clinical Establishment Regulatory Commission)-এর কাছে। অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। শুনানির সময় অভিযুক্ত ডায়গনস্টিক সেন্টারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আগের রিপোর্টে নাকি ‘প্রিন্টিং মিসটেক’ হয়েছিল। তবে কমিশনের মতে, এমন ভুল কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এ ধরনের গাফিলতি অত্যন্ত গুরুতর। কারণ একটি ভুল রিপোর্টের ফলে একটি শিশুকে সারাজীবন রক্তজনিত জটিল রোগ বহন করতে হচ্ছে। ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রসূন ভট্টাচার্যের কথায়, চিকিৎসা পরীক্ষায় এই ধরনের ভুল রোগী ও পরিবারের জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই ঘটনার পর কমিশন জেলা স্বাস্থ্য দফতরকে দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ডায়গনস্টিক সেন্টারের (Diagnostic Center) লাইসেন্স বাতিলের জন্য হুগলির মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, থ্যালাসেমিয়ার মতো বংশগত রোগের ক্ষেত্রে পরীক্ষার রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য ভুলও ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এখন প্রশ্ন একটাই এই ঘটনার পর কি স্বাস্থ্য দফতর আরও কড়া নজরদারি চালাবে ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলির (Diagnostic Center) উপর? এমন ভুল যাতে আর না ঘটে, তার জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে সেদিকেই তাকিয়ে চিকিৎসক মহল থেকে সাধারণ মানুষ।


