Aaj India Desk, কলকাতা : উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্কে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ ও মন্ত্রী শশী পাঁজার (Shashi Panja) বাড়িতে হামলার অভিযোগকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও জোরদার হল। প্রাথমিক রিপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ঘাটতি থাকায় নতুন করে কলকাতা পুলিশের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত রিপোর্ট চাইলো নির্বাচন কমিশন।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে পাঠানো রিপোর্টে ঘটনার পূর্ণ টাইমলাইন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা এবং গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্লেষণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না। বিশেষ করে সংঘর্ষের আগে কোনও সতর্কবার্তা ছিল কি না, এবং থাকলে তা কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেসব বিষয় নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও তাদের সক্রিয়ভাবে ব্যবহার না করার কারণ নিয়েও কমিশন জানতে চেয়েছে। কেন স্থানীয় পুলিশই মূলত পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াও রিপোর্টে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।
ব্রিগেডের আগে উত্তেজনা
উল্লেখ্য , শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেড সমাবেশকে কেন্দ্র করে শহরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। সেই সময় ব্রিগেডমুখী বিজেপি কর্মীদের একটি বাস গিরিশ পার্ক এলাকায় পৌঁছলে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে বচসা শুরু হয়, যা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি কর্মীরা বাস থেকে নেমে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে হামলা চালায় এবং মন্ত্রী শশী পাঁজার (Shashi Panja) বাড়ি লক্ষ্য করে ভাঙচুর করে। স্থানীয় কার্যালয়ের জানালার কাঁচ ভেঙে যায় এবং দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি একাধিক তৃণমূল কর্মী ও কাউন্সিলর আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ।
মন্ত্রী শশী পাঁজা (Shashi Panja) অভিযোগ করেন, “ইট ছুঁড়ে জানলার কাঁচ ভাঙা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, এই ঘটনায় প্রায় ৫০ জন তৃণমূল কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং তিনিও আঘাত পেয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে গোটা ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনও ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে সংঘর্ষের প্রকৃত টাইমলাইন, গোয়েন্দা সতর্কতার ভূমিকা এবং বাহিনী মোতায়েনের কার্যকারিতা এই তিনটি বিষয়েই নজর কমিশনের। নতুন রিপোর্ট জমা পড়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।


