Aaj India Desk, কলকাতা : নিবার্চনের আগে সন্দেশখালি-সহ একাধিক গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত শেখ শাহজাহান (Sheikh Shahjahan) ও আলমগীরের জামিনের আবেদন খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মামলায় নতুন যে তথ্য উঠে এসেছে তার ভিত্তিতে নতুন করে আবেদন না করা পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর সম্ভব নয়।
সাক্ষ্য নিয়ে নতুন বিতর্ক
বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে শুনানির পর এই নির্দেশ দেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তদন্তের অগ্রগতিতে নতুন তথ্য সামনে এসেছে, ফলে বর্তমান আবেদন পর্যাপ্ত নয়। এই অবস্থায় নতুন করে তথ্য-সহ জামিনের আবেদন দাখিল করতে হবে। শুনানিতে শেখ শাহজাহানের আইনজীবী দাবি করেন, মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ৮৬ জন। পাশাপাশি, যার বয়ানের ভিত্তিতে শাহজাহানকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, সেই মাজেদা বিবিকেও সিবিআই চার্জশিটে অভিযুক্ত করেছে। এই যুক্তিতে পুনরায় শুনানির আবেদন জানানো হয়। তবে আদালত এই যুক্তিকে গুরুত্ব দেয়নি।
একাধিক মামলায় জড়িত শাহজাহান
শেখ শাহজাহান (Sheikh Shahjahan) সন্দেশখালিতে বিজেপির তিন কর্মী খুনের মামলার প্রধান অভিযুক্ত। এছাড়াও, রেশন দুর্নীতির তদন্তে গিয়ে ইডি আধিকারিকদের উপর হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগেও তিনি জেলে রয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, খুনের ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পর সিবিআই তদন্ত শুরু করে, যা তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। হাইকোর্টের নির্দেশের পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ২০১৯ সালের সন্দেশখালি ঘটনার ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে। ২০২২ সালের আরও একটি খুনের মামলার চার্জশিটেও শাহজাহানের নাম উঠে এসেছে, যদিও সেই মামলায় তিনি আগে জামিন পেয়েছিলেন।
নতুন মামলায় বাড়ছে চাপ
২০২৪ সালের শুরুতে ইডি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর হামলার অভিযোগে নতুন করে মামলা হয়। সেই সময় শাহজাহানের (Sheikh Shahjahan) বিরুদ্ধে খুন, রেশন দুর্নীতি, জমি দখল, অর্থ পাচারসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠে। সন্দেশখালিতে স্থানীয় মহিলাদের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনাও ছড়ায়। এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেস তাকে দল থেকে সাসপেন্ড করে। একাধিক মামলায় নাম জড়ানো এবং তদন্তের ধীরগতি, দুই মিলিয়ে এই মামলাটি এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তদন্তে বিলম্ব নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
২০১৯ সালের খুনের ঘটনার তদন্ত পাঁচ বছর পরে শুরু হওয়া স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তোলে। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষ্য যাচাই এবং ঘটনাপ্রবাহ পুনর্গঠন কঠিন হয়ে পড়ে। এতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি যেমন থাকে, তেমনি তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়। সব মিলিয়ে, এই মামলায় আগামী দিনগুলোতে আইনি লড়াই আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


