Aaj India Desk, কলকাতা : রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে (Droupadi Murmu) ঘিরে সম্মান ও প্রোটোকলের প্রশ্নে রাজ্য রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত। এই পরিস্থিতিতে রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর সভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি পুরনো ছবি দেখিয়ে কেন্দ্র ও বিজেপিকে কটাক্ষ করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলকে আরো উত্তেজিত করে তুললেন।
রবিবার সভামঞ্চে বড় স্ক্রিনে একটি ছবি তুলে ধরেন অভিষেক। ছবিটিতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বসে আছেন, আর তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
বিজেপির অভিযোগের পাল্টা জবাব
গত দুদিন ধরে রাষ্ট্রপতির পশ্চিমবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত না থাকায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে অসম্মানের অভিযোগ তোলে বিজেপি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযোগেরই পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে ২০২৪ সালের একটি ঘটনার উল্লেখ করে সেই ছবিটি দেখান। ওই সময় দিল্লিতে বিজেপির প্রবীণ নেতা এল কে আদভানিকে ‘ভারতরত্ন’ সম্মান দেওয়ার অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu) পুরস্কার প্রদান করেন। সেই অনুষ্ঠানের একটি ছবি তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আছেন এবং প্রধানমন্ত্রী বসে রয়েছেন। যদিও সেই সময় বিজেপির তরফে জানানো হয় যে প্রোটোকল অনুযায়ী কেবল পুরস্কার বিতরণের সময়ই রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়েছিলেন।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার পেছনে রাজনীতি
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের এই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার পেছনে ছিল রাজনৈতিক হিসাব। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) অসম্মানের অভিযোগে প্রতিরক্ষায় না গিয়ে একই ইস্যুকে ঘুরিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধেই ব্যবহার করার কৌশল নিয়েছে শাসক দল। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের প্রতীকী ইস্যু সামনে এনে রাজনৈতিক বার্তা তৈরির চেষ্টা নতুন নয়; বরং তা জনমতের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার এক পরিচিত কৌশল।
বিতর্কের কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতির পদ
তবে এই পুরো বিতর্কে বারবার সামনে চলে আসছে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা রাষ্ট্রপতির নাম। একদিকে সম্মান ও প্রোটোকলের প্রশ্ন তুলে রাজনৈতিক আক্রমণ, অন্যদিকে তার পাল্টা দিতে পুরনো ছবি বা ঘটনার উল্লেখ, এই দুই পক্ষের লড়াইয়ে রাষ্ট্রপতিই যেন রাজনৈতিক তর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছেন। বিশ্লেষকদের একাংশের মত, নিবার্চনের আগে রাষ্ট্রপতির মর্যাদাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে উভয় শিবির। তবে যে সম্মান ও মর্যাদার প্রশ্নে এত বাকবিতণ্ডা, তারই অবমাননা করে এই রাজনৈতিক খেলা কতটা কার্যকর হবে তার জবাব দেবে সময়।


