Aaj India Desk, কলকাতা : জোটের দরকষাকষি, আসন বাছাই, আর কৌশলের পালাবদলে জমে উঠেছে নির্বাচনের আগের লড়াই। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান বদলে ফের আলোচনায় বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)।
নির্বাচনের প্রাক্কালে হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা কিছুদিন ধরেই চলছিল। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কারের পর তিনি দ্রুত নিজের দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করেন এবং একাধিক আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা নেন। শুরুতে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, রেজিনগর ও বেলডাঙা এই দুই গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। পাশাপাশি তাঁর পুরনো কেন্দ্র ভরতপুর থেকেও লড়াইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
তবে বুধবার তাঁর অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যায়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, রেজিনগর থেকে প্রার্থী থাকছেন, কিন্তু বেলডাঙা থেকে লড়বেন না। পরিবর্তে তিনি নওদা আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক মহল কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছে।
এদিকে, একার শক্তিতে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করা কঠিন বুঝেই হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) বামফ্রন্ট ও আইএসএফের সঙ্গে জোট গড়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। সেই লক্ষ্যে তিনি প্রথমে ১০ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেন। পরে তা বাড়িয়ে ১৫ মার্চ করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়েও জোট নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সমাধান সামনে আসেনি।
জোট গঠনের এই অচলাবস্থার মধ্যেই তিনি ধাপে ধাপে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করছেন। প্রথম পর্যায়ে ৯ জন প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে মালদা জেলার ৪টি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। বুধবার তৃতীয় দফায় আরও কয়েকটি আসনের প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা ২২ মার্চ প্রকাশ করা হবে।
বর্তমানে জোট গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় নির্বাচনে তাঁর দলের চূড়ান্ত কৌশল কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ বাড়ছে।


