Aaj India Desk, হুগলি : হুগলির খানাকুলে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনে সভা শেষে ভোটারদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ শুনলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banarjee)। জনরোষ সামলাতে সভা মঞ্চ থেকেই তিনি বাতিল ভোটারদের আশ্বাস দেন।
স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর পর সম্পূরক তালিকায় বাদ পড়া নাম নিয়ে বিভিন্ন জেলায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশের পর হুগলি জেলার চুঁচুড়া, পুরশুরা, আরামবাগ, খানাকুলসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। চুঁচুড়া স্টেডিয়ামে গঠিত ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই জনগণের ক্ষোভ বাড়ছে। সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় অভিষেকের সভায়।
অভিষেকের আশ্বাসবানী
কিন্তু সভা থেকে বেরোনোর সময় ভোটারদের অভিযোগ শুনে অভিষেক বলেন, “সবাই এই দেশের নাগরিক। আগে যেভাবে ভোট দিয়েছেন, এবারও তেমনই ভোট দেবেন।” তিনি জানান, তৃণমূল কংগ্রেস প্রত্যেক পঞ্চায়েতে পঞ্চায়েত নির্বাচনী সুপারভাইজার এবং প্রত্যেক ব্লকে ব্লক সুপারভাইজার নিয়োগ করেছে। দলের পক্ষ থেকে সবার হয়ে আপিল করা হবে। অভিষেক জানান, ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্টে চলছে। আগামী ৬ এপ্রিল পরবর্তী শুনানি। তিনি বলেন, “কারও নাম জোর করে কাটা হলে তৃণমূল কংগ্রেস লড়াই করবে।”
সূত্র অনুযায়ী, অভিষেকের বক্তব্যে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা কমেছে এবং তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তির ওপর আস্থা বাড়িয়েছে। একই সময়ে এটি বিষয়টিকে আইনি ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে, যা ৬ এপ্রিলের সুপ্রিম কোর্ট শুনানির আগে দলের অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে। অনেক ‘বাদ পড়া’ ভোটার আপাতত আন্দোলন থেকে সরে এসে ট্রাইব্যুনালে আপিল করার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন।
অন্যান্য জেলায় ভোটার প্রতিবাদের প্রভাব
তবে এই ঘটনা শুধু হুগলির নয়। মালদার মোথাবাড়ি, সুজাপুর, কালিয়াচক-২, ইংরেজবাজার এবং পুরাতন মালদা ব্লকের মঙ্গলবাড়ি এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। বুধবার রাতে মোথাবাড়ি এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে জনতা সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে ঘিরে রাখে। জাতীয় সড়ক ১২ অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, যথাযথ নথি থাকা সত্ত্বেও তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এনআইএ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ, ডেগঙ্গা ও বসিরহাট এলাকায় একাধিক বুথে বহু ভোটারের নাম সম্পূরক তালিকায় না থাকায় রাস্তা অবরোধ করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তিতেও অনুরূপ প্রতিবাদ দেখা গিয়েছে। কোচবিহারের ঘুঘুমারি এলাকায় বংশপরম্পরায় বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও নাম বাদ পড়ার অভিযোগে পথ অবরোধ হয়েছে। ময়নাগুড়ি ও শিলিগুড়ি সংলগ্ন এলাকাতেও একাধিক বুথের প্রায় এক হাজার ভোটারের নাম কাটা যাওয়ার খবরে ধর্ণা চলছে।
এই প্রতিবাদগুলি ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। অনেক এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন বাদ পড়া নাম ফেরানোর উদ্যোগ নিলেও, ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। হুগলির ঘটনার পর অন্য জেলাগুলিতে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় ভোটাররা আশঙ্কা করছেন যে, আপিল প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে।


