Aaj India, কলকাতা : দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় বড়সড় বদলের ইঙ্গিত। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে শক্তিশালী স্কোয়াল ফ্রন্ট ‘শম্পা'(Shampa)। এর জেরে রাজ্যের একাধিক জেলায় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কিছু কিছু এলাকায় এই গতিবেগ ১০০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে, যা কার্যত কালবৈশাখীর তীব্র রূপ নেবে। এর সঙ্গে থাকবে ভারী বৃষ্টিপাত, বজ্রবিদ্যুৎ এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকা থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশ, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এই ঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে।
কী এই স্কোয়াল ফ্রন্ট?
আবহাওয়াবিদদের মতে, স্কোয়াল ফ্রন্ট (Squall Front) হল একটি আকস্মিক আবহাওয়াগত সীমারেখা, যেখানে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাসের সঙ্গে ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাসের সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষের ফলে তৈরি হয় প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার একটি শক্তিশালী রেখা, যা সাধারণত উল্টানো ‘L’ আকারে বিস্তৃত থাকে।
এই প্রক্রিয়ায় আকাশে তৈরি হয় বিশাল কিউমুলোনিম্বাস মেঘ, যার ফলেই দেখা দেয় বজ্রঝড়, প্রবল বৃষ্টি, বিদ্যুৎ চমক এবং কখনও কখনও শিলাবৃষ্টি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং আচমকাই আবহাওয়ার চেহারা বদলে যায় – চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে, শুরু হয় তীব্র ঝড়-বৃষ্টি।
কতটা বিপজ্জনক?
স্কোয়াল ফ্রন্ট অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। প্রবল ঝোড়ো হাওয়া, মেঘভাঙা বৃষ্টির মতো পরিস্থিতি এবং ঘন ঘন বজ্রপাত মুহূর্তের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। গাছপালা উপড়ে যাওয়া, বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং প্রাণহানির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সতর্কতা কী কী?
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে –
- বজ্রপাতের সময় অপ্রয়োজনীয় বাইরে বেরোনো এড়িয়ে চলুন
- খোলা মাঠ, কৃষিজমি বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে অবস্থান করবেন না
- ঝড়-বৃষ্টির সময় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন
সবমিলিয়ে, আগামী কয়েকদিন রাজ্যের আবহাওয়া যে যথেষ্ট অস্থির থাকবে, তা স্পষ্ট। তাই ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের এই সময়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করাই একমাত্র উপায়।


