মালদহ: আদর্শ আচরণ বিশির মাঝে নজিরবিহীন ঘটনা! মালদহের কালিয়াচকে (Kaliachak Protest) হিংসা, বিক্ষোভ এবং সর্বোপরি এসআইআরের কাজে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের দীর্ঘ ৮ ঘন্টা বিডিও অফিসে আটক রাখার ঘটনায় তোলপাড় সমগ্র রাজ্য। বুধবার অশান্তির পর নির্বাচন কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পর রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষে শুক্রবার সকালে পলায়নের সময় বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার হয়েছে ঘটনার মূলচক্রী মোফাক্কেরুল ইসলাম (Mofakkerul Islam)।
পেশায় তিনি একজন আইনজীবী। ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা চল্লিশোর্ধ্ব মোফাক্কেরুল পূর্বে রায়গঞ্জ আদালতে আইনজীবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে কলকাতা হাইকোর্টেও কাজ করেছেন তিনি। হাইকোর্টের কাছেই ছিল তাঁর চেম্বার। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবারই ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা চল্লিশোর্ধ্ব মোফাক্কেরুলের (Mofakkerul Islam) বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। কালিয়াচকের ঘটনায় মোট ১৯ টি মামলা দায়ের হয়েছে। এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন ৩৫ জন।
আসাদউদ্দিনের মিমের সঙ্গে যোগ
পেশায় আইনজীবী হলেও ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা চল্লিশোর্ধ্ব মোফাক্কেরুলের (Mofakkerul Islam) সঙ্গে রাজনীতির যোগ রয়েছে। তাও আবার ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের। ওই বছরই আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিমে নাম লেখান তিনি। শুধু তাই নয়, ইটাহারে মিমের প্রার্থী হিসেবে টিকিটও পান। কিন্তু মাত্র ৮৩১ টি ভোট পেয়ে গো-হারা হেরে যান ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা চল্লিশোর্ধ্ব মোফাক্কেরুল।
প্রসঙ্গত, আসন্ন ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গে হুমায়ুন কবিরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে লড়াইয়ের ময়দানে নামছে আসাদউদ্দিনের এমআইএম বা মিম। ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদে জোরদার প্রচারে নেমেছে হুমায়ুন-ওয়েইসি জোট। হুমায়ুন কবির আগেই ঘোষণা করেছেন, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দুই দিনাজপুর, নদিয়া জেলা কার্যত তাঁর হাতে। তাই প্রশ্ন উঠছে বুধবার কালিয়াচকের ঘটনার (Kaliachak Protest) পেছনে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই তো?
ঠিক কি হয়েছিল কালিয়াচকে?
প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে বুধবার বিকেল থেকে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মালদহের বিভিন্ন অঞ্চল। মোথাবাড়ি, সুজাপুর এর পাশাপাশি কালিয়াচকে (Kaliachak Protest) বিডিও অফিসের সামনে ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিকেল ৪ টে থেকে রাত ১২ তা পর্যন্ত বিডিও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয় মানুষজন।
আটক করে রাখা হয় ৩ মহিলা সহ ৭ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে। রাত ১২ টার পর পুলিশ পৌঁছে তাঁদেরকে উদ্ধার করে। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া, লাঠিপেটা করার অভিযোগ ওঠে। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন মানুষজন।
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজ্য পুলিশের কাছে রিপোর্ট চায় নির্বাচন কমিশন। পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকও করে কমিশন। এরপর বৃহস্পতিবার রাজ্য প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট। কালিয়াচকের ঘটনায় এনআইএ, সিবিআই-এর মোট কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে তদন্তভার তুলে দিতে বলে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।


