স্নেহা পাল, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় (Assembly) বাজেট বরাদ্দ বিল নিয়ে আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে আচমকাই তৈরি হয় তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন। সরকারি পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য চলাকালীন হঠাৎই বন্ধ করা হয় তাঁর মাইক। ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় সভাকক্ষে।
বিধানসভায় (Assembly) বাজেট বরাদ্দ বিল নিয়ে আলোচনার সময় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য চলাকালীন স্পিকারের নির্দেশে তাঁর মাইক বন্ধ হয়ে গেলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস স্পিকারের কাছে শোভনদেবকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। তবে স্পিকার বিমানের বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বলেন, “আমার উপর চাপ দেওয়া যাবে না।” তিনি আরও জানান, “আগে নাম না থাকলে সময় দেওয়া যেত।”
তবে অধিবেশনের প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পরেই স্পিকার বিমানের বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কক্ষে গিয়ে কথা বলেন। বিধানসভা সূত্রের দাবি, অধিবেশন চলাকালীন স্পিকারের এভাবে কোনও মন্ত্রীর কক্ষে গিয়ে আলোচনায় বসা বিরল ঘটনা। যদিও এই বৈঠক নিয়ে স্পিকার বা শোভনদেব কেউই প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।
রাজনৈতিক নেতাদের মতে, অধিবেশনের মাঝপথে এমন বৈঠক রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধী দলনেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, স্পিকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনগত অধিকার আছে। তবে তাঁর অভিযোগ, বিরোধী বিধায়কেরা দেরিতে এলেও অনেক সময় বক্তব্যের সুযোগ পান, কিন্তু একই নীতি ওই মন্ত্রীর ক্ষেত্রে মানা হয়নি।
এদিকে এর আগে শনিবারই স্পিকারের অনুমতি নিয়ে পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। স্পিকার জানান, অন্তর্বর্তী বাজেটে মাদ্রাসায় অর্থ বরাদ্দ নিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশকে লক্ষ্য করে অগ্নিমিত্রা পালের এই ধরনের মন্তব্য বিধানসভায় বরদাস্ত করা হবে না।
বাজেট অধিবেশনের শেষ লগ্নে একাধিক বিতর্ক, মাইক বন্ধের ঘটনা ও বিরল বৈঠক মিলিয়ে বিধানসভায় (Assembly) রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে।


