Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা ভোট নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। চলতি বছরের নির্বাচন সূচি (Election Schedule) ঘিরে ক্রমশ বাড়ছে অনিশ্চয়তা। ভোটার তালিকা সংশোধন ও SIR কাজের জটের কারণে ভোটের দিনক্ষণ পিছিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের।
সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার নির্দেশ দিয়েছে, বাকি থাকা SIR কাজ সম্পন্ন করতে বাংলায় বিচারক নিয়োগ করা হবে। অন্যান্য রাজ্য থেকে বিচারক আনা হবে। ৮০ লক্ষেরও বেশি যাচাইয়ের কাজ এখনও বাকি। সুপ্রিম কোর্টের চিফ জাস্টিসের হিসাব অনুযায়ী, দিনে ২৫০টি শুনানি হলেও প্রায় ৮০ দিন লাগবে।
এই পরিস্থিতিতে কমিশন বুধবার নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকদের দুটি গ্রুপে ভাগ করে ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণ শুরু করেছে। প্রথম গ্রুপকে সকাল, দ্বিতীয় গ্রুপকে বিকেলে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে SIR সম্পর্কিত সমস্ত প্রশ্নের সমাধান জানানো হয়েছে।
প্রতিনিধি দলের আগমন স্থগিত
ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ১ ও ২ মার্চ কমিশনের বিশেষ প্রতিনিধি দল রাজ্যে আসার কথা ছিল। এরপর মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যে এসে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে এখন ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলতে থাকায় প্রতিনিধি দলের আগমন স্থগিত হয়েছে। পরিস্থিতি অনুসারে, SIR জটের কারণে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন ঘোষণায় (Election Schedule) বিলম্ব হতে পারে।
ভোট সূচি বিলম্বের প্রভাব
ভোটের দিনক্ষণ পিছিয়ে গেলে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা, প্রচারণার সময় এবং ভোটগ্রহণের তারিখ সব কিছু সরাসরি প্রভাবিত হতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
অন্যদিকে কমিশন আশা করেছিল বিশেষ প্রতিনিধি দল আগেই এসে পর্যবেক্ষণ শুরু করবে। দিন পিছলে গেলে পর্যবেক্ষকরা নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করতে পারবে না, যার ফলে প্রশাসনিক নজরদারি প্রথম থেকেই কঠোরভাবে সম্পন্ন করা কঠিন হবে।
কঠোর নজরদারি থাকবে শুরু থেকেই
কমিশন সূত্রে জানা যায়, এবার নির্বাচনের সময়সূচি (Election Schedule) প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক রাজ্যে আসতে পারেন। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য অন্তত একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে মনোনয়ন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর সরাসরি নজরদারি করা হবে। পূর্বের তুলনায় এবার কমিশন প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ রাখছে। পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, তামিলনাড়ু, আসাম ও পুদুচেরিতে একই নীতি প্রয়োগ করা হতে পারে।


