Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ এর আগে হঠাৎ করে বহু শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকের বদলি ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। এই আবহে কলকাতা হাইকোর্টে নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলে কড়া মন্তব্যে তুলোধোনা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)।
নির্বাচনের আগে সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতির মধ্যেই রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূলের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) অভিযোগ করেছেন, হঠাৎ করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নজিরবিহীন। তিনি দাবি করেন, মোট ৬৩ জন পুলিশ আধিকারিক এবং ১৬ জন আইএএস অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন পুলিশ সুপারও রয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের নতুন কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, “নির্বাচন ঘোষণার পর হঠাৎ একের পর এক অভিজ্ঞ অফিসারকে সরানো হচ্ছে কেন?” তাঁর অভিযোগ, যাঁরা এতদিন নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ সামলাচ্ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আগে কোনও আপত্তি জানায়নি নির্বাচন কমিশন। কিন্তু হঠাৎ এই পদক্ষেপ কেন নেওয়া হল, তা স্পষ্ট নয়।
তিনি আরও বলেন, মুখ্যসচিবকে সরানো হলেও তাঁকে নতুন কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। একইভাবে পঞ্চায়েত দফতরের সচিবের বদল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি, কারণ তাঁর মতে ওই পদটির সঙ্গে সরাসরি নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই। সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে স্বরাষ্ট্রসচিবকে অন্য রাজ্য, তামিলনাড়ুতে পাঠানোর ঘটনা। কল্যানের (Kalyan Banerjee) প্রশ্ন, “এই ধরনের পদক্ষেপ কি কমিশনের ক্ষমতার মধ্যে পড়ে?”
এদিকে, এই বদলি সংক্রান্ত মামলার শুনানি শুরু হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি চলছে।
অন্যদিকে, নবান্ন ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলাকে বুথে কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে। পরিস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়লেও, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি।


