Aaj lndia Desk, পুরুলিয়া : জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক সমীকরণে একুশের ভোটে বড় ধাক্কা খেয়েছিল ঘাসফুল শিবির (TMC)। বহু জায়গায় পদ্মঝড়ে (BJP) ভেসে গিয়েছিল তাদের ঘাঁটি, কোথাও আবার অল্প ব্যবধানে হাতছাড়া হয়েছিল আসন। তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র পুরুলিয়ার কাশীপুর, যেখানে ২০২১-এ জয় পেয়েছিলেন বিজেপি (BJP)-র কমলাকান্ত হাঁসদা।তবে ছাব্বিশের ভোট সামনে রেখে সেই আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। আর সেই লক্ষ্যেই এবার শাসকশিবিরের ভরসা সংগঠনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত মুখ, সৌমেন বেলথরিয়া।শনিবার কাশীপুরে প্রচারে গিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরাসরি বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। আত্মবিশ্বাসী সুরে তিনি বলেন, “তৃণমূল সমুদ্র জনতার সমুদ্র। আর তোমরা (BJP)? তোমরা তো জলাশয়ও নও! সমুদ্রকে শুকিয়ে দেবে কী করে?”
রানিগঞ্জ থেকে প্রচার শুরু করেই আগ্রাসী সুরে মাঠে নামলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর রঘুনাথপুর হয়ে কাশীপুর একাধিক সভা থেকে বিজেপিকে নিশানা করে একের পর এক কড়া বার্তা দিলেন তিনি ।কাশীপুরের ‘পদ্মগড়’ পুনর্দখলের লক্ষ্য সামনে রেখে তৃণমূল এবার ভরসা রেখেছে সংগঠন থেকে উঠে আসা মুখ সৌমেন বেলথরিয়ার উপর। তবে তাঁর সমর্থনে প্রচারে গিয়ে মমতার বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে।
সভামঞ্চ থেকে ডিটেনশন ক্যাম্প ইস্যু তুলে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, “একটা লোককেও তাড়াতে দেব না, তার আগে বিজেপিকে তাড়াব দিল্লি থেকে।”পাশাপাশি হুঁশিয়ারির সুরে তাঁর মন্তব্য “যতই হামলা হোক, তৃণমূলই জিতবে, বিজেপি ভ্যানিশ হয়ে যাবে।” এতেই থেমে না থেকে, বিরোধীদের উদ্দেশে টাকা দিয়ে কেনাবেচার অভিযোগ তোলার পাশাপাশি “যম আছে পিছে, পালাবার পথ নেই” এই মন্তব্যও করেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনী মঞ্চে এই ধরনের কড়া ও ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক ভাষা কি আদৌ গণতান্ত্রিক পরিসরের জন্য স্বাস্থ্যকর? নাকি ক্রমশ রাজনীতির ভাষা আরও সংঘাতমুখী হয়ে উঠছে এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জঙ্গলমহলের ভোটের আগে।


