Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের ২২তম রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিলেন আরএন রবি (RN Ravi)। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার লোকভবনে আয়োজিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। বহু রাজনৈতিক জল্পনা ও বিতর্কের মাঝেই সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে লোকভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক, বিচারপতি, সাংসদ ও বিধায়কদের একাংশ উপস্থিত ছিলেন। আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেওয়ার পর রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আরএন রবি। লোকভবন সূত্রে জানা গেছে, শপথের পর থেকেই তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তবে শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে রাজনীতির আবহও স্পষ্ট। কারণ, নির্বাচনের ঠিক আগে প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের হঠাৎ পদত্যাগের পরই কেন্দ্রের তরফে দ্রুত আরএন রবির (RN Ravi) নাম ঘোষণা করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিরোধীদের একাংশের মতে, কেন্দ্রের এই নিয়োগের মধ্যে রাজনৈতিক কৌশল থাকতে পারে। বিশেষ করে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের প্রেক্ষিতে এই নিয়োগকে অনেকেই রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন।
আরএন রবির (RN Ravi) অতীত কার্যকলাপ এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়েও আলোচনা চলছে। কেন্দ্রীয় প্রশাসনে দীর্ঘদিন কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ফলে রাজনীতির অন্দরমহলে তাঁর অবস্থান ও কেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়েও নানা ব্যাখ্যা উঠে আসছে।
এই পরিস্থিতিতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। প্রথম থেকেই মুখ্যমন্ত্রী নতুন রাজ্যপালের প্রতি সহৃদয় নন তা স্পষ্ট। কেন্দ্রের ঘোষণার পরেই অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার রবিকে বিজেপির ‘ছাপমারা ক্যাডার’ বলে উল্লেখ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, গণতান্ত্রিক কাঠামোয় রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সাংবিধানিক পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক সৌজন্য বজায় রাখা রাজনীতিরই অংশ। ফলে একদিকে কেন্দ্র-রাজ্য রাজনৈতিক সংঘাত, অন্যদিকে শপথ মঞ্চে সৌজন্যের ছবি, এই দুইয়ের মিলনেই নতুন রাজ্যপালের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হয়েছে এক বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। তবে এই নতুন সমীকরণ রাজ্য রাজনীতিতে ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


