Aaj India Desk, কলকাতা: ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বা ‘SIR’ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই শুক্রবার ধর্মতলায় ধর্নায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মঞ্চ থেকেই বিজেপিকে কটাক্ষ করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)।
‘গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই’ বলে দাবি
ধর্না মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন বেঁচে আছেন, ততদিন তিনিই সেরা মুখ্যমন্ত্রী। আজ মমতা আর গণতন্ত্র সমার্থক হয়ে উঠেছে।” এর পরেই কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বহু বৈধ ভোটারের নাম ‘পর্যালোচনাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার ফলে বাংলার বিভিন্ন জায়গায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। “এক সময় আমরা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করেছি। আজও সেই একই লড়াই, গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই,” বলেন তৃণমূল সাংসদ।
ধর্নামঞ্চ থেকে বিজেপিকে নিশানা
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও কটাক্ষ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তাঁর দাবি, যাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতিতে তুলে এনেছিলেন, তিনিই এখন তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছনোর ক্ষমতাও তাঁর নেই।”
কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কল্যাণের দাবি, কমিশনের অদক্ষতার কারণেই বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন এবং অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তাঁদের নাম তালিকায় থাকবে কি না তা নিয়ে। তিনি বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন জানান, যাতে নিরপেক্ষভাবে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হয় এবং বৈধ ভোটারদের নাম পুনর্বহাল করা হয়।
এদিন ধর্না মঞ্চে আইনজীবী ও তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রার্থী মেনকা গুরুস্বামীও বক্তব্য রাখেন। মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে মঞ্চে উঠে তিনি বলেন, ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই তিনি চালিয়ে যাবেন এবং এই অধিকারের সুরক্ষায় আইনি লড়াই জোরদার হবে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬ লক্ষ নাম ‘আন্ডার রিভিউ’ রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। সেই ইস্যুতেই শুক্রবার থেকে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


