কলকাতা: সিপিএম বিজেপির মত ধাপে ধাপে নয়, এক ধাপেই ২৯১ আসনের মেগা লাইন আপ ঘোষণা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নিজের কালীঘাটের বাসভবনে সাংবাদিকদের ডেকে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলেন তিনি। যেটা প্রথমেই নজর কাড়ল, পাহাড়ের কালিম্পং, কার্শিয়াং এবং দার্জিলিং-এ প্রার্থী দিল না তৃণমূল। পরিবর্তে অনিত থাপার নেতৃত্বে স্থানীয় শক্তিকেই সমর্থন করা হবে, বলে তালিকা ঘোষণার আগেই জানিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
এক ঝলক তাকালেই সব আসনে মমতার ছাপ স্পষ্ট।তালিকায় তারা নতুন মুখ হলেও, পুরনো যোদ্ধাদেরই আধিপত্য রয়েছে।৮০ জনেরও বেশি প্রার্থী পঞ্চাশোর্ধ্ব, যেখানে তরুণের সংখ্যা মাত্র এক শতাংশ।তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিদের জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন ছাড়াও সংখ্যালঘুরাও প্রতিনিধিত্বের ন্যায্য অংশ পেয়েছে। একদিকে যখন রেশন দুর্নীতি কান্ডে যুক্ত প্রিয়া মল্লিককে টিকিট দেওয়া হলেও চাকরি নিয়োগ দুর্নীতির কাদা লাগা পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বিধানসভা নির্বাচন থেকে ব্রাত্য করল দল।
পরেশ পালকে বাদ দিয়ে আনা হল কুণাল ঘোষকে, চুঁচুড়া থেকে ময়দানে নামানো হল দেবাংশুকে। জোড়াসাঁকোতে বিবেক গুপ্তর বদলে বিজয় উপাধ্যায়কে নামালো তৃণমূল। আর ভবানীপুরে শুভেন্দুর বিপরীতে থাকলেন সুপ্রিমো মমতা নিজেই। ঘাসফুল শিবিরে যোগদানের পরপরই নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিপরীতে লড়ার টিকিট পেলেন পবিত্র কর।
কিছু আসন পরিবর্তনও হয়েছে, যেমন প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবির ডোমকলে এবং অভিনেতা সোহম চ্যাটার্জীকে পাঠানো হল “নিরাপদ আসনে”। সামগ্রিকভাবে দেখতে গেলে আসন্ন ভোটের লড়াইয়ে নিজের ভাবমূর্তি সঠিক রাখার দিকেই যেন বেশি নজর দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তৃণমূল স্তরে মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তিনি। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগেই সেইকথা ঠারেঠোরে জানিয়ে দিলেন। আসন্ন ভোটে ২২৬-আসন এজেতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী তিনি।


