Aaj lndia Desk, হাওড়া : বিধানসভা ভোট (Assembly election)- র আগে রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ অনেকটাই শেষের পথে। নির্বাচন কমিশনের ঝাড়াই বাছাই অভিযানে ইতিমধ্যেই বহু ভোটারের নাম বাদও পড়েছে তালিকা থেকে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাদ পড়া নামের একটি বড় অংশই মৃত ব্যক্তির বা অন্য রাজ্যে বসবাসকারী বাসিন্দাদের । এদিকে তথ্য বলছে গোটা হাওড়া জেলার মধ্যে সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়েছে হাওড়া শহরের চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে।বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে অধিকাংশই অবাঙালি হিন্দিভাষী।
এই পরিস্থিতি কে কেন্দ্র করে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দল বেশি লাভবান হবে আর কার ক্ষতি হতে পারে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ। তবে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি- দুই শিবিরই দাবি করছে, ভোটার তালিকার এই পরিবর্তনে শেষ পর্যন্ত তারাই লাভের মুখ দেখবে , তবে এখন দেখার বিষয় আদতে লাভটা কার হয় ?
হাওড়া শহর এলাকার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার তালিকা সংশোধনের পরিসংখ্যানেটা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হচ্ছে , বড়সড় পরিবর্তনের ছবি দেখা দিচ্ছে । মধ্য হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ২ লক্ষ ২২ হাজার ৬৯৫ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় এক হাজার ভোটারের নাম ইতিমধ্যেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। পাশাপাশি এখনও প্রায় ২৫ হাজার আবেদন বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ২ লক্ষ ২ হাজার ভোটারের মধ্যে ২২৫৩ জনের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। এখানে এখনও প্রায় ১১ হাজার আবেদন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাওড়া দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে মোট প্রায় আড়াই লক্ষ ভোটারের মধ্যে সরাসরি বাদ পড়েছে প্রায় পাঁচশো নাম। তবে এখনও অন্তত ২৫ হাজার নাম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাকি রয়েছে।
অন্যদিকে, বালি বিধানসভা কেন্দ্রে ইতিমধ্যেই প্রায় ১১০০ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সেখানে বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে আরও ১৪ হাজার ৩৩৫ জন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, হাওড়া শহরের একাধিক বিধানসভা এলাকায় যেসব ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের বড় অংশই অবাঙালি ভোটার। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এঁদের অনেকেরই নাম অন্য রাজ্যের ভোটার তালিকাতে ও ছিল। অভিযোগ, এমনও অনেকে ছিলেন যাঁরা দুই জায়গাতেই ভোট দিতেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক ঝাড়াই বাছাই অভিযানে সেই সব নাম ধরা পড়ে গিয়েছে এবং তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। জানা যাচ্ছে, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে অনেকেরই আদি বাড়ি বিহার, উত্তরপ্রদেশ বা ঝাড়খণ্ডে।
তৃণমূলের একাংশের মতে, হাওড়ার হিন্দিভাষী ভোটারদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির প্রতি অনুগত। ব্যবসায়িক কারণে শাসকদলের নেতাদের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক থাকলেও ভোটের সময় তাঁরা গেরুয়া শিবিরকেই সমর্থন করেন বলে ধারণা শাসকদলের নেতাদের। সেই কারণেই উত্তর হাওড়া, বালি, শিবপুর বা মধ্য হাওড়ার মতো এলাকায় বিজেপির সংগঠন ততটা শক্তিশালী না হলেও গেরুয়া প্রার্থীরা একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্কের সমর্থন পেয়ে যান।
অন্যদিকে বিজেপি নেতাদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, হিন্দিভাষী ভোটারদের একটি বড় অংশ সাধারণত ভোটের দিন বুথে গিয়ে ভোট দেন না। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের বুথে যেতে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের। বিজেপি নেতাদের মতে, সেই সুযোগে শাসকদলের কর্মীরাই তাঁদের নামে ভুয়ো ভোট দিয়ে দেন।তবে এবার পরিস্থিতি বদলেছে বলে দাবি বিজেপির। কারণ, যেসব ভোটারের নামই তালিকা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে, তাঁদের নামে আর জাল ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
হাওড়া সদর তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সম্পাদক ভাস্করগোপাল চট্টোপাধ্যায় বলেন, যেসব অবাঙালি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের অনেকেই তিন থেকে পাঁচ পুরুষ ধরে হাওড়াতেই বসবাস করছেন। তাঁর দাবি, এঁদের বড় একটি অংশ তৃণমূলকেই সমর্থন করতেন। বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিতেই নির্বাচন কমিশন পরিকল্পিতভাবে তাঁদের নাম বাদ দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতির পরেও হাওড়ায় জয় তৃণমূলেরই হবে। অন্যদিকে বিজেপির (BJP) রাজ্য সম্পাদক ও উত্তর হাওড়ার বাসিন্দা উমেশ রাই সম্পূর্ণ উল্টো দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা মারা গিয়েছেন বা অন্যত্র চলে গিয়েছেন, তাঁদের নামও উত্তর হাওড়ার ভোটার তালিকায় থেকে গিয়েছিল। তাই খসড়া তালিকায় প্রায় ৬০ হাজার নাম বাদ পড়া স্বাভাবিক ও যথাযথ বলেই মনে করছেন তিনি। উমেশ রাইয়ের অভিযোগ, এতদিন এই ভোটগুলিই তৃণমূলের কর্মীরাই দিতেন, ফলে এতে বিজেপির কোনও ক্ষতি হবে না।


