Aaj India Desk, কলকাতা : ভোটের আবহে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক। তার মাঝেই ঋণ পরিশোধ না করার অভিযোগে আইনি চাপে পড়লেন তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী (Soham Chakraborty)।
৬৮ লক্ষ টাকার লেনদেন
অভিযোগকারী হুগলির ব্যবসায়ী তথা তৃণমূল নেতা শাহিদ ইমামের দাবি, ২০২১ সালে একটি ছবির জন্য তিনি সোহমকে মোট ৬৮ লক্ষ টাকা দেন। চুক্তি অনুযায়ী সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও এখনও তা ফেরত মেলেনি। বারবার টাকা চাওয়ার পর তাঁকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শাহিদ ইমাম জানান, কয়েকদিন আগে তিনি চারু মার্কেট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই ভিত্তিতে পুলিশ সোহমকে নোটিস পাঠায় এবং থানায় হাজিরার নির্দেশ দেয়। এরপরই বিষয়টি আদালতে গড়ায়।
অন্যদিকে, এই অভিযোগ অস্বীকার করে আগেই সোহম চক্রবর্তী (Soham Chakraborty) জানিয়েছিলেন, তিনি কাউকে হুমকি দেননি। তাঁর দাবি, এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তবে সেই যুক্তি খারিজ করে শাহিদ ইমাম বলেন, তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং মমতা ব্যানার্জি ও অভিষেক ব্যানার্জির আদর্শেই তাঁরা রাজনীতি করেন। তাই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
তবে, শাহিদ ইমাম নিজেও অতীতে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। ২০২২ সালে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হন তিনি এবং ২০২৪ সালে জামিন পান। অভিযোগ, জামিন পাওয়ার পর থেকেই তিনি বকেয়া টাকা ফেরতের দাবি জোরদার করেন।
ভোটের আগে ইমেজে চাপ?
উল্লেখ্য, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস করিমপুর কেন্দ্র থেকে সোহম চক্রবর্তীকে প্রার্থী করেছে। তিনি ইতিমধ্যেই প্রচার শুরু করেছেন। এর আগে ২০২১ সালে চাঁদিপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন তিনি। এবার এই ঘটনাটি আগামী ভোটে প্রভাব ফেলবে কিনা তা নির্ভর করছে ভোটারদের প্রতিক্রিয়া ও বিরোধীদের প্রচারের উপর। করিমপুরের মতো কেন্দ্রে ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সোহম চক্রবর্তীর (Soham Chakraborty) বিরুদ্ধে ওঠা এই আর্থিক অভিযোগ কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত যদি বিষয়টি প্রচারে বারবার উঠে আসে।


