Aaj lndia Desk, কলকাতা: ভোটের আগে রাজ্যে বাড়ছে চাপা উত্তেজনা। বহুদিনের অপেক্ষার পর বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হতে চলেছে সোমবার বিকেলে। আর সেই ঘোষণাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত সাসপেন্স তালিকায় আপনার নাম থাকছে তো? সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরে চলা যাচাই-বাছাই, আপত্তি, শুনানি সব প্রক্রিয়া পেরিয়ে এবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের মুখে। এই তালিকায় স্থান পাবে সেই সব নাম, যেগুলি নিয়ে এতদিন সংশয় ছিল। অনেকেই নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন, আবার অনেকের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গ্রাম থেকে শহর প্রায় সর্বত্রই এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে, ‘নামটা আছে তো?’ কারণ, এই তালিকায় নাম থাকা মানেই ভোটাধিকার নিশ্চিত, আর নাম না থাকলে সমস্ত প্রস্তুতি অর্থহীন। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে চাপা উদ্বেগ, কৌতূহল আর আশঙ্কার মিশ্র আবহ।
প্রশাসনিক মহলের মতে, ভোটার তালিকার এই সংশোধন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল। কোনও ভুয়ো নাম বাদ দেওয়া যেমন জরুরি, তেমনই প্রকৃত ভোটারদের নাম সুরক্ষিত রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিটি নাম নিয়ে হয়েছে খুঁটিনাটি যাচাই। পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন কমিশন ২০২৬
(West Bengal Assembly Election 2026)-এর আগে এই তালিকা প্রকাশ তাই রাজনৈতিক ভাবেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এই তালিকার উপরই নির্ভর করছে চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা, যা প্রভাব ফেলতে পারে নির্বাচনের সমীকরণেও। এখন সব নজর সোমবার বিকেলের দিকে আপনার নাম কি থাকবে সেই তালিকায়? নাকি শেষ মুহূর্তে কাটা পড়বে? উত্তর লুকিয়ে আছে সেই ঘোষণাতেই। আর ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা, আর বাড়তে থাকা সাসপেন্স।
সংখ্যার নিরিখে ছবিটা আরও চমকপ্রদ। শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ২৭ লক্ষ ৩০ হাজার নামের নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে বলেও সূত্রের দাবি। অন্যদিকে, কমিশনের হাতে পৌঁছে গিয়েছে প্রায় ৪০ লক্ষ বুথের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা যা এই প্রক্রিয়ার বিশালতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে শুধু তালিকা নয়, তার আগেই বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। ভারতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India )ইতিমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সক্রিয় হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়েও বৈঠক হয়েছে বলে খবর।
এই মুহূর্তে প্রায় ৭০৫ জন জুডিশিয়াল অফিসার কাজ করছেন এই প্রক্রিয়ায়। কমিশনের গাইডলাইন মেনে তাঁরাই ঠিক করছেন ,কার নাম থাকবে, আর কার নাম বাদ যাবে।কিন্তু তালিকা প্রকাশের আগে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়েই বাড়ছে দুশ্চিন্তা। তাই আগাম সতর্কতা নিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না কমিশন।
সব মিলিয়ে, এটা শুধু একটি তালিকা প্রকাশ নয় ,এটা হাজার হাজার মানুষের ভোটাধিকার নির্ধারণের মুহূর্ত।পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন কমিশন ২০২৬ (West Bengal Assembly Election 2026)-এর আগে তাই এই সাপ্লিমেন্টারি তালিকা যেন এক বড় পরীক্ষা, গণতন্ত্রের, প্রশাসনের,আর সাধারণ মানুষের ধৈর্যেরও। এখন শুধু অপেক্ষা , সোমবার বিকেল, আর সেই একটাই প্রশ্ন –
তালিকায় আপনার নাম থাকবে তো?
তালিকা প্রকাশের পর কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগাম সতর্ক প্রশাসন। নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন জায়গায় মোতায়ন থাকবে বাহিনী, পাশাপাশি চলবে কড়া নজরদারি ।বুথে বুথে তালিকা টাঙানোর সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতির উপর নজর রাখবে প্রশাসন, যাতে কোথাও কোনও উত্তেজনা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। শুধু অফলাইন নয়, সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য ফাইনাল তালিকার মতোই এই সাপ্লিমেন্টারি তালিকাও অনলাইনে দেখা যাবে। ফলে বাড়িতে বসেই সহজে মিলিয়ে নেওয়া যাবে নিজের নাম।
ভোটার তালিকা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই শেষ কথা এমন নয়। নাম না উঠলে বা কেটে গেলে, তার বিরুদ্ধেও রয়েছে লড়াইয়ের রাস্তা।
এই পরিস্থিতিতে আপিলের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে বিশেষ ট্রাইবুনাল। অবসরপ্রাপ্ত বিচারক-বিচারপতিদের নিয়ে মোট ১৯টি ট্রাইবুনাল তৈরি করা হয়েছে ২৩ জেলার জন্য। এই তালিকায় রয়েছেন টি. এস. শিবজ্ঞানম, বিশ্বজিৎ বসু, রঞ্জিত কুমার বাগ, সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের মতো অভিজ্ঞ নাম।
তাঁরাই দেখবেন –
. কার আবেদন গ্রহণযোগ্য,
.আর কার ক্ষেত্রে আগের সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে।
আবেদন করার পথও রাখা হয়েছে সহজ। অনলাইনে আবেদন করা যাবে ECI NET অ্যাপ বা কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে। অফলাইনে আবেদন জমা দেওয়া যাবে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক বা মহকুমা শাসকের দপ্তরে। অর্থাৎ, নাম বাদ পড়লেই শেষ নয় আছে সংশোধনের সুযোগ,
আছে নিজের অধিকার ফেরানোর লড়াইও। ভারতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)-র এই উদ্যোগে স্পষ্ট বার্তা –
- ভুল হলে সংশোধন হবে,
- আর প্রতিটি ভোটারের অধিকার সুরক্ষিত রাখাই লক্ষ্য।


