Aaj India Desk, কলকাতা: বাংলার বিধানসভা ভোট (Assembly Election)-কে সামনে রেখে বিজেপি (BJP) এবার আরও ৫টি আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ৩টি আসনে তাদের প্রার্থীও পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে কলকাতা বন্দরের প্রার্থীকে নিয়ে এখনও জল্পনা চলছে। ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)-এর বিরুদ্ধে এই আসনে কে হবে বিজেপির প্রার্থী, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। শনিবার ঘোষিত তালিকায় শুধুমাত্র কলকাতা বন্দরের প্রার্থীর নাম বাকি ছিল।
বাংলায় নির্বাচন দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে। এ অবস্থায় বিজেপি তাদের প্রার্থী তালিকা একাধিক ধাপে প্রকাশ করেছে -এ পর্যন্ত মোট পাঁচবার। এদিন ৫ জন প্রার্থীর মাধ্যমে মোট ২৯২টি আসনের প্রার্থী নাম ঘোষণা করা হয়েছে। দমদম উত্তরে প্রার্থী করা হয়েছে প্রয়াত তপন শিকদারের ভাইপো সৌরভ শিকদারকে। মধ্যমগ্রাম আসনের প্রার্থী হলেন রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়। উলুবেড়িয়া পূর্বে প্রার্থী করা হয়েছে রুদ্রপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তরে বিজেপির টিকিটে জিতেছিলেন মুকুল রায়, যিনি পরে তৃণমূলে যোগদান করেন। সম্প্রতি তাঁর মৃত্যু হওয়ায় আসনটি নতুন প্রার্থীর জন্য ফাঁকা ছিল। এবার কৃষ্ণনগর উত্তরে বিজেপি প্রার্থী করেছে তারকনাথ চট্টোপাধ্যায়কে। নদিয়ার কল্যাণী আসনে বিদায়ী বিধায়ক অম্বিকা রায়কে বাদ দিয়ে বিজেপি প্রার্থী করেছে অনুপম বিশ্বাসকে। অম্বিকার বিরুদ্ধে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং কল্যাণী এইমসে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর কিছুদিন আগেই সল্টলেক দফতর জোর দিয়েছিল যে, তাঁকে প্রার্থী করা হবে না। এদিন দেখা গেল, পদ্ম শিবির সেই সিদ্ধান্ত মেনে চলে।
এদিন ৩টি আসনের প্রার্থীও বদলানো হয়েছে। বসিরহাট উত্তরে প্রার্থী হল কৌশিক সিদ্ধার্থ। বেহালা পূর্বে নতুন প্রার্থী হলেন শঙ্কর শিকদার। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর আসনে এবারই তৃতীয়বার প্রার্থী পরিবর্তন হল। প্রথমে গতবারের প্রার্থী অগ্নিশ্বর নস্করের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল, পরে বিশ্বজিৎ খাঁর নাম ঘোষণা করা হলেও তিনি এসসি সংরক্ষিত আসনের জন্য উপযুক্ত নন। অবশেষে এই আসনে প্রার্থী করা হয়েছে অভিজিৎ সর্দারকে।
সবমিলিয়ে মোট ২৯২টি আসনের জন্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিজেপি। বাঁকুড়ার জয়পুর আসনে কুড়মি আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিশ্বজিৎ মাহাতো, যিনি কুড়মি নেতা অজিত মাহাতোর ছেলে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কলকাতা বন্দর আসনের প্রার্থী কেন এখনও ঘোষণা করা হলো না? বিজেপি সূত্রের খবর, তারা রাকেশ সিংয়ের জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তাহলে কি ফিরহাদের বিরুদ্ধে এই আসনে রাকেশ সিংকে প্রার্থী করা হবে? শেষ পর্যন্ত এই আসনের প্রার্থী কে হবে, তা দেখার অপেক্ষা।


