পৌলমী ব্যানার্জী,কলকাতা: খড়্গপুর শহরে বিদ্যুৎ মিটার পরীক্ষা(Meter check) করতে এসে সংযোগ কেটে দেওয়া, মিটার খুলে নেওয়া এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা, এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠল এক দপ্তর আধিকারিকের বিরুদ্ধে। দেখা গেল ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল শহরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড-এর।
এক অভিযুক্ত আধিকারিকের নাম রাজু ঘোষ অভিযোগ, এ জানালেন তিনি ‘মিটার চেক’ (Meter check) করার নাম করে বাড়িতে প্রবেশ করেন কিন্তু বাড়ির মালিকের দাবি, মিটারে কোনও ত্রুটি বা বকেয়া বিল ছিল না তবুও হঠাৎ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং মিটার খুলে নেওয়া হয়। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হলে বড় অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয় বলে ওঠে।
এই ঘটনায় খড়্গপুর শহরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তথা পেশায় শিক্ষিকা দীপিকা সিনহা খড়্গপুর টাউন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা গিয়েছে, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এদিকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ‘মিটার পরীক্ষা’ (Meter check) বা ‘লাইন চেকিং’-এর নামে বাড়িতে ঢোকার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হলে গৃহস্থের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়—ফ্রিজ, পানীয় জল পাম্প, অনলাইন কাজ সবই থমকে যায়। সেই পরিস্থিতিকে চাপ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকরা সাধারণত পরিচয়পত্র দেখিয়ে এবং লিখিত নোটিস দিয়ে কাজ করেন। তাই কোনও বাসিন্দা যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তবে সঙ্গে সঙ্গে দপ্তরে বা থানায় যোগাযোগ করা উচিত।
বলা যেতে পারে,ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা এখন নজরে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে আর যদি অভিযোগ ভিত্তিহীন হয়, তবে সেটিও তদন্তে স্পষ্ট হবে। আপাতত খড়্গপুরের এই ঘটনা একটাই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে—মিটার পরীক্ষা(Meter check) নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য?


