Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আগে উত্তপ্ত রাজ্য। এর মধ্যেই বামফ্রন্ট ও ISF জোট প্রায় ভাঙনের মুখে। ক্যানিং পূর্ব আসনে তৃণমূল ত্যাগী আরাবুল ইসলামকে প্রার্থী করা নিয়ে সিপিএম ও ISF এর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ হওয়ায় জোটের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
বৃহস্পতিবার সকালে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট ভাষায় জানান, তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে ‘দুষ্কৃতীদের’ সঙ্গে আপস করা যাবে না। আরাবুল ইসলামের প্রার্থী হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি তৃণমূল আমলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কথাও তুলে ধরেন।
কড়া মন্তব্য সিদ্দিকীর
এর জবাবে বৃহস্পতিবার রাতেই ISF চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী পাল্টা কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, “ISF কাকে প্রার্থী করবে, তা সম্পূর্ণ দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। অন্য কোনও দলের নির্দেশ বা প্রভাব মেনে নেওয়া হবে না।” প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে আইএসএফের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। তিনি স্পষ্ট বলেন, “ISF কারুর লেজুড়বৃত্তি করে না”।
আগে থেকেই অস্বস্তি
আসন বণ্টন নিয়ে বাম ও ISF এর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই ‘ঠান্ডা যুদ্ধ’ চলছিল। একসময় খুনের অভিযোগে ধৃত আরাবুল ইসলামকে আইএসএফ প্রার্থী করায় সেই দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়েছে। আলিমুদ্দিনের একাংশের আপত্তি, যিনি একসময় আইএসএফ কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত, তাকে জোটসঙ্গী হিসেবে মেনে নেওয়া কঠিন। এই পরিস্থিতিতে জোট টিকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে ভাঙড় ও ক্যানিং অঞ্চলের ভোট সমীকরণে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে ভাঙড় কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে আরাবুল ইসলাম সিপিএম প্রার্থী মোশাররফ হোসেন লস্করকে পরাজিত করে বিধায়ক হন। তবে ২০১১ সালে দলীয় বিদ্রোহের জেরে ভোটভাগাভাগির ফলে তিনি পরাজিত হন এবং পরবর্তীতে দল থেকেও বহিষ্কৃত হন। ভাঙড় ও সংলগ্ন এলাকায় আরাবুল ইসলামের দীর্ঘদিনের প্রভাব রয়েছে। স্থানীয় স্তরে তাঁর নিজস্ব সংগঠন ও সমর্থক গোষ্ঠী আছে, যা নির্বাচনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া এই অঞ্চলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক টেনে রাখতে আইএসএফ আরাবুলকে প্রার্থী করেছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। এবার আগামী নির্বাচনের আগে বাম শিবিরের এই বিরোধ কীভাবে মেটানো হয়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।


