Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্যের রাজনীতিতে যেখানে বামফ্রন্ট কার্যত অস্তিত্ব সংকটে, সেখানে তাদেরই প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরলেন তৃণমূল প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। চন্দননগরের সভা থেকে তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে তুলছে প্রশ্ন।
রবিবার চন্দননগরের জ্যোতি মোড়ে এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইন্দ্রনীল সেন বলেন, বিজেপির বহু প্রার্থীই আগে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর কথায়, “কেউ পাঁচ বছর, কেউ তিন বছর, কেউ দু’বছর তৃণমূল করেছে,সেই অভিজ্ঞতাই এখন বিজেপির প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা।” তিনি উত্তরবঙ্গের নিশীথ প্রামাণিক থেকে শুরু করে অর্জুন সিং ও শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতাদের উদাহরণ টেনে বলেন, “যাঁরা একসময় তৃণমূলকে গড়েছেন, তাঁরাই এখন বিজেপির প্রার্থী।”
সভায় নরেন্দ্র মোদি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলনা করে ‘লাইন’ প্রসঙ্গও তোলেন ইন্দ্রনীল। তাঁর দাবি, “মোদীর লাইনে মানুষকে দাঁড়াতে হয় আধার, গ্যাসসহ নানা পরিষেবার জন্য। আর মমতার লাইনে মানুষ পায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবশ্রী-সহ একাধিক সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা।”
এরপর বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাতে গিয়েই বেফাঁস মন্তব্য বসেন ইন্দ্রনীল সেন। তিনি বলেন যে তাঁদের আসল প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি নয়, বরং বামফ্রন্ট। তাঁর বক্তব্য, “বাম যতই একজোট হোক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো সম্ভব নয়।”
তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের বামফ্রন্টকে ‘মূল প্রতিপক্ষ’ হিসেবে দেখানোর পেছনে মূলত ভোটের সমীকরণই সবচেয়ে বড় কারণ। শাসক শিবিরের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বাম ভোটের একটি অংশ সরাসরি বিজেপির দিকে সরে যাচ্ছে, যার ফলে বিজেপির ভোটের ব্যবধান বাড়ছে। এই প্রেক্ষিতে বাম ভোটকে ‘টার্গেট’ করাই কৌশল হতে পারে। তৃণমূল প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেনের বক্তব্য সেই বার্তাই বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বামকে প্রধান প্রতিপক্ষ দেখানো আসলে বিজেপির বিরুদ্ধে পরোক্ষ লড়াই, যেখানে লক্ষ্য বিরোধী ভোটের বিভাজন ঠেকানো। উল্লেখ্য, সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা অশোক ভট্টাচার্যও সম্প্রতি এই প্রবণতার কথা স্বীকার করেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে ইন্দ্রনীলের মন্তব্য রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


