কলকাতা: মাথার ওপর “শূন্যের” বোঝা। তা সত্ত্বেও ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ টি আসনে একা লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস (Congress)। বৃহস্পতিবার দিল্লির ১০ নং রাজাজি মার্গে সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনটাই ঘোষণা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা গুলাম আহমেদ মীর। তৃণমূলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বামেদের সঙ্গে জোট ২০১৬-র পর ২০২১-এও ফলপ্রসূ হয়নি।
উল্টে গত বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটের ব্যর্থতাই বিজেপির ঝুলিতে কিছুটা ‘বোনাস পয়েন্ট’ এনে দিয়েছিল বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। তবে ছাব্বিশের ভোটকে সামনে রেখে পুরনো ‘ভুল’ শুধরাতে গিয়ে নতুন কোনও ‘বড় ভুল’ করতে যাচ্ছে না তো কংগ্রেস (Congress), বিশেষজ্ঞ মহলে সেই নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা।
‘একলা চলো রে’ নীতিতে কোণঠাসা হতে পারে কংগ্রেস?
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল-বিজেপি দ্বিমুখী লড়াইয়ে “টুইস্ট” হিসেবে প্রকট হয়েছে হুমায়ুন কবিরের জনতা ইউনিয়ন পার্টি ও তাঁদের জোট। আসাদউদ্দিনের মিমের পর বামেদের সঙ্গেও হুমায়ুনের সম্ভাব্য জোট নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এই আবহে একা লড়তে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গে কোণঠাসা হয়ে যাবে না তো কংগ্রেস (Congress)? দলের অভ্যন্তরে অবশ্য “এটাই উপায়” বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২১-এ হাতে শূন্য এলেও সাগরদিঘি উপনির্বাচনে জয়লাভ করেছিল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবারের বৈঠক শেষে গুলাম মীরের বক্তব্য ছিল, বামেদের সঙ্গে জোট করার ফলে তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কংগ্রেস। সেই চিত্র বদলাতেই এবার একক লড়াইয়ের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। পাশাপাশি, জাতীয় কংগ্রেসের সিদ্ধান্তই শীরধার্য বলে জানিয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাথা গলিয়ে অস্তিত্ব টেকাতে পারবে কংগ্রেস?
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে ময়দানে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এসআইআর, বরাদ্দ আটকে রাখা, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত ও ধর্মীয় মেরুকরণকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছে শাসকদল তৃণমূল। পাল্টা হিসেবে বাংলা দখলের লক্ষ্যে অনুপ্রবেশ, বেকারত্ব ও নারীসুরক্ষার মতো ইস্যুতে জোর দিচ্ছে বিজেপি।
এই দুই শক্তির বাইরে, বঞ্চনা ও ভোটব্যাংক রাজনীতির অভিযোগকে সামনে রেখে জমি শক্ত করার চেষ্টা করছে হুমায়ুন-জোট। ফলে এই ত্রিমুখী দ্বন্দ্বের মাঝে নতুন কোন ইস্যু তুলে ধরে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে কংগ্রেস (Congress)? সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্যবাসী।


