SPECIAL FEATURE
কলকাতা: বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে বিধানসভার অন্তর্বর্তী বাজেটে লক্ষ্মীর ভান্ডারের (Lokkhir Bhandar) ভাতা বাড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একুশের বিধানসভা ভোটে এটিই ছিল তাঁর ‘তুরুপের তাস’। বাংলার মা-বোনেদের হাতে প্রতি মাসে নগদ টাকা তুলে দিয়ে বাজিমাত করেছিল তৃণমূল। সেই মডেলেই সম্ভবত “অন্নপূর্ণা ভান্ডার” (Annapurnar Bhandar) আনতে চলেছে বিজেপি।
একুশের ভোটে ৭৭-এ আটকে যাওয়ার ভুল করতে নারাজ রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। এর আগে বিজেপিকে বলতে শোনা গিয়েছে, ক্ষমতায় এলে বাংলার মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর প্রার্থী লাইন-আপ জানিয়ে দিয়েছে বিজেপি। এবার ইস্তেহারের পালা। ধারণা করা হচ্ছে, মোদী-শাহের উপস্থিতিতে আগামী ২৭ বা ২৮ মার্চই ইস্তেহার প্রকাশ করতে পারে বিজেপি। আর সেখানে চমক থাকতে পারে মহিলাদের জন্য। ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্পের আওতায় মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে বিজেপি।
প্রতিশ্রুতি না হাতে গরম? কিসে ভরসা বাংলার মহিলাদের?
লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে যতই সমালোচনা হোক না কেন, বাংলার মহিলাদের উপর তার প্রভাব একুশের ফলাফলেই স্পষ্ট। তাঁদের কথা ভেবেই মমতা আরও ৫০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন, বলে মনে করেন বাংলার একাংশ মহিলা। সুবালা পারুই, বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগণার মটেরদিঘি গ্রামে। কলকাতায় পরিচারিকার কাজ করেন তিনি। সুবালা দেবী বলেন, “প্রথমে ৫০০, তারপর ১০০০ এখন দেড় হাজার করে দিয়েছে আমাদের দিদি। যে যাই বলুক, যত টাকার লোভ দিক, আমার ভরসা দিদি”।
মুর্শিদাবাদের সুন্দরপুর গ্রামের সুষমা দাসের বক্তব্য, “স্বামীর রোজগার থেকে কোনরকমে সংসারটা চলত। কিন্তু হাতে কিচুই থাকত না। এখন আমি লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lokkhir Bhandar) জমিয়ে নিজেদের ছোট ছোট স্বপ্ন পূরণ করছি। দুটো ছাগল কিনেছি”। নদিয়ার ললিতা বিবি আবার বাম-বিজেপির উপর রীতিমত আক্রমণের সুরেই বলেন, “আমাদেরকে সিপিএম কিছু দেয়নি। বিজেপি তো মুখে বলছে। দেবে কিনা তার ঠিক নেই। আসতে আসতে তো বাড়ছে। একলাফে বেশি লোভ করতে নেই”!
যদিও, ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডারের’ (Annapurnar Bhandar) আশাতেও রয়েছেন অনেক মহিলাই। পাঁশকুড়ার বিজলী দাসের বক্তব্য, “এবার বিজেপিই ক্ষমতায় আসছে। মমতার দিন শেষ। মোদীজি আমাদের কে মাসে ৩ হাজার টাকা দেবে।” অনেক মহিলার আবার বক্তব্য, “আজকাল দেড় হাজার টাকায় কি হয়? ওটা ভিক্ষা দেওয়া। ৩ হাজার টাকা মাসে পেলে নিজেদের ব্যবসা শুরু করতে পারব। আসলেই স্বাবলম্বী হতে পারব”।
এখন দেখা যাক, ‘বাংলার মেয়ে’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তার সামনে বিজেপির প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনবিরোধী হাওয়া কি গেরুয়া শিবিরের পক্ষে কাজ করবে, নাকি পদ্ম আবারও সবুজ ঝড়ের সঙ্গে ভেসে যাবে? উত্তর মিলবে ভোটের ফল ঘোষণার দিন।


