নন্দীগ্রাম: ভোট যত এগিয়ে আসছে, রাজ্যে রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ ততই চড়ছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে শাসক-বিরোধী কটাক্ষ, পাল্টা কটাক্ষের পালাও। তাতে অণুঘটকের কাজ করছে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে (Nandigram) এসআইআর শুনানি (SIR Hearing) চলাকালীন বেশ কয়েকজন প্রবীণ লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
তাঁদের তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) স্বাস্থ্য পরিষেবা শিবির ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্পে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এই নিয়ে ফের এসআইআর প্রক্রিয়াকে একহাত নেওয়ার পাশাপাশি ‘জনকল্যাণমূলক’ কাজের হাতিয়ারে বিজেপিকে বিঁধল তৃণমূল। এসআইআর শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া প্রবীণদের স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা সেবাশ্রয় ক্যাম্পে নিয়ে যান, সেখান থেকে তাঁদের পাঠানো হয় নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে।
যা নিয়ে ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা শুরু করে দিয়েছে শাসকদল তৃণমূল। তাঁদের বক্তব্য, ‘নির্বাচন কমিশনের নির্যাতনে’ মানুষকে দুর্দশার মুখে ঠেলে দিচ্ছে বিজেপি। আর তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছে অভিষেকের ‘সেবাশ্রয়’ (Sevashray)। এটাই দুই দলের মধ্যে পার্থক্য।
‘নোংরা রাজনীতি’ বলে তোপ বিজেপির
অন্যদিকে, অসুস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়ানো নিয়ে এ হেন প্রচার তৃণমূলের ‘নোংরা রাজনীতির’ পরিচয় বহন করছে বলে পাল্টা তোপ দেগেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা প্রলয় পাল কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূলের সৌগত রায়ও তো অসুস্থ হয়েছিলেন। তাঁকে কলকাতার বদলে নন্দীগ্রামের সেবাশ্রয়ে (Sevashray) এনে চিকিৎসা করানো হল না কেন?”
ডায়মন্ড হারবারের পর শুভেন্দু-গড়ে অভিষেকের ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্প
প্রসঙ্গত, নিজের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের পর গত ১৫ জানুয়ারি নন্দীগ্রামের ‘শহীদদের’ পরিবারের সদস্যদের দিয়ে সেবাশ্রয় (Sevashray) ক্যাম্প শুরু করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বলা বাহুল্য, শুভেন্দুকে আক্রমণ করে অভিষেক বলেছিলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর পরিবারকেও এই সেবাশ্রয় ক্যাম্পে আসতে হবে”।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নন্দীগ্রামকে ‘হটস্পট’ হিসেবে ধরা হয়। মমতাকে হঠিয়ে সেই নন্দীগ্রামে পদ্ম ফুটিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আসন্ন নির্বাচনে সেই হারানো ‘হটস্পট’ পুনরুদ্ধারের লক্ষেই কি সেবাশ্রয় নিয়ে তৃণমূলের সমাজমাধ্যমে এই বিপুল প্রচার? উঠছে প্রশ্ন।


