কলকাতা: ধাপে ধাপে প্রকাশিত হচ্ছে এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (SIR Final Voter List)। ইতিমধ্যেই উত্তর কলকাতা সহ কোচবিহার, বাঁকুড়া এবং নদিয়ায় বিডিও, এসডিও অফিসে পৌঁছে গিয়েছে তালিকা। বাঁকুড়া, কোচবিহারে তালিকা টাঙ্গানোও হয়েছে। শনিবার দুপুর ১ টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বাঁকুড়ায় নাম বাদ যাচ্ছে প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই বাঁকুড়া শহরে বিক্ষোভের আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। তৃণমূল কাউন্সিলরের নেতৃত্বে পথে নামছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে চুঁচুড়ায় তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের নেতৃত্বে বিশাল মিছিল। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রায় ২৫০ কর্মী নিয়ে মিছিলে নেমেছেন অসিত মজুমদার।
অভিযোগ, শুনানিতে সব নথি জমা দেওয়ার পরেও এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার (SIR Final Voter List) তালিকায় নামের পাশে লেখা রয়েছে “ডিলিটেড”, বা “অ্যাডজুডিকেশন”। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কলকাতায় বাদের ১৭ হাজার নাম। নদিয়ায় বাদ ৬০ হাজার নাম, অ্যাডজুডিকেশনে ২ লক্ষ ১৬ হাজার। আগেই কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, সবচেয়ে বেশি নাম বাদ যেতে পারে মুর্শিদাবাদে। এরপর দুই ২৪ পরগণা। আপাতত ৭ লক্ষ ভোটারের নামের পাশে “ডিলিটেড” পারে বলে কমিশন সূত্রে খবর! সব মিলিয়ে প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদের খাতায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিক্ষোভ নয়!
এই আবহে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। কি আঁচ করে আগেভাগে বঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামালো নির্বাচন কমিশন? সেই প্রশ্নেরই কার্যত ইঙ্গিত দিলেন তিনি। সজল ঘোষ বলেন, যাঁদের নাম ডিলিটেড তাঁদের ভোটারাধিকার পুনরুদ্ধার প্রায় অসম্ভব। তিনি বলেন, “তালিকায় নাম বাদ গেলে বিক্ষোভে নামবেন না। রাজ্যে নামছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কোনোরকম অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না”। অর্থাৎ, এসআইআরে ঠিক কত নাম বাদ যেতে পারে এবং রাজ্যজুড়ে তার প্রভাব আঁচ করেই কি আগেভাগে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামালো নির্বাচন কমিশন? যে বিষয়ে অবগত বিজেপিও? প্রশ্ন বিশ্লেষক মহলে।
প্রতিদিন অ্যাডজুডিকেশন হবে
এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (SIR Final Voter List) প্রকাশ নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন “আজ ফাইনাল তালিকা মানেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রতিদিন অ্যাডজুডিকেশন হবে। এটা বিজেপির একটা পরিকল্পনা। এই প্ররোচনায় পা দেবেন না” এই নিয়ে সজল ঘোষের পাল্টা বক্তব্য, “যারা একেবারেই অবৈধ তাঁদের নাম বাদ যাবে। সেটা সবাই চায়। একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না। আর যারা আতঙ্ক আতঙ্ক করছে, তাঁরাই আদপে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। একসময় তাঁরাই আতঙ্ক ছড়িয়েছিলেন।” এরপর তিনি বলেন, “এবার কিন্তু রাজীব কুমারের পুলিশ নয়, দিদির পুলিশ নয়। এবার কিন্তু কেন্দ্রের পুলিশ। কাজেই কেউ অশান্তির চেষ্টা করবেন না”।
১ মার্চ থেকে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী
নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের আগেই মার্চ থেকে রাজ্যে নামছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ১ মার্চ থেকে ২৪০ কোম্পানি মোতায়েন হবে। দ্বিতীয় দফায় ১০ মার্চের মধ্যে আরও ২৪০ কোম্পানি পৌঁছবে। বাহিনীর মধ্যে রয়েছে CRPF, BSF, CISF, ITBP ও SSB। সংবেদনশীল নদিয়া, মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং কোচবিহার জেলায় সিনিয়র আইপিএস অফিসারকে মোতায়েন করা হয়েছে। থাকবে স্পেশাল পুলিশ বাহিনী। কোনোরকম গণ্ডগোল যেন না ঘটে তাই সতর্ক প্রশাসন। শুরু হয়েছে রুট মার্চ।


