পুরুলিয়া: পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant Worker) সুখেন মাহাতোর মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করব না, বললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শুক্রবার পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের বরাবাজার থানার তুমড়াশোলের বাঁধডিতে সুখেন মাহাতোর বাড়িতে যান অভিষেক।
মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের (Migrant Worker) বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, একাধিক বিজেপি-শাসিত রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থা, মারধোর এমনকি হত্যা করা হয়েছে। আগামী ৭-১০ দিনের মধ্যে সুখেন মাহাতোর খুনের ঘটনায় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
তিনি বলেন, “সুখেন মাহাতোর মৃতদেহের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। এতটাই নৃশংসভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। আমি সুখেনের বাবাকে আশ্বস্ত করেছি, জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবী করছি।” শুধু তাই নয়, আগামী দশদিনের মধ্যে দোষীরা ধরা না পড়লে মহারাষ্ট্রে ৬-৭ জনের প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে বলে জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদকে বার্তা
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বলেন, “আমি এই নিয়ে কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করব না। কিন্তু মহারাষ্ট্রে বিজেপি সরকার। আমি পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতোকে বলবো, তৎপরতার সঙ্গে দ্রুত তৎপরতার উদ্যোগ নিয়ে দোষীদের শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করুন”।
পুণে পুলিশের বিবৃতিতে অসন্তোষ
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের পুণের করেগাঁও ভিমা এলাকায় পুরুলিয়ার বরাবাজার থানার পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant worker) সুখেন মাহাতোর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসতেই নতুন করে সুর চড়ায় রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
সেই আবহে পুণে পুলিশের বিবৃতি সামনে আসতে ক্ষোভ উগড়ে দেয় তৃণমূল। বিবৃতিতে পুণে পুলিশের দাবী, মত্ত অবস্থায় দুজন ব্যক্তির সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন পুরুলিয়ার সুখেন মাহাতো। সেই বিবাদের জেরেই সুখেন খুন হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান পুলিশের। ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে গেরুয়া রাজ্য মহারাষ্ট্রের পুলিশের এই দাবী মানতে নারাজ তৃণমূল। নিজের ‘মুখ রক্ষায়’ এই দাবী করছে বলে দাবী করে ঘাসফুল শিবির।


