কলকাতা: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে হিন্দু-মুসলিম বিতর্কের আগুনে ঘৃতাহুতি দিলেন উত্তরপ্রদেশের মৌলানা জারজিশ আনসারি (Maulana Jarjis Ansari)। মহাশিবরাত্রির দিন তিনেক আগে মালদার কালিয়াচকে সভা করেন মৌলানা জারজিশ আনসারি (Maulana Jarjis Ansari)। সেখানেই হিন্দুদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, উৎসব নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে মৌলানাকে বলতে শোনা যায়, “আপনাদের লঙ্গর, ভান্ডারা, কাঁধে বাক নিয়ে হাঁটা, হোলি খেলা সবই তো রাস্তায় হয়! আমাদের নামাজ পাঠই বা কেন রাস্তায় হতে পারবে না?” হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন মৌলানা বলে যা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
“আমাদের চুপ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে”
উত্তরপ্রদেশে সংখ্যালঘুদের উপর ‘অত্যাচার’ হচ্ছে বলে একাধিকবার পশ্চিমবঙ্গে সভায় এসে অভিযোগ তুলেছেন মৌলানা জারজিশ আনসারি (Maulana Jarjis Ansari)। মালদার কালিয়াচকের সভা থেকে তিনি বলেন, “কাঁওয়ার যাত্রী অর্থাৎ শিবরাত্রিতে যাঁরা কাঁধে বাঁক নিয়ে শিবমন্দিরে জল ঢালতে যান, উত্তরপ্রদেশে তাঁদের উপর হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হয়। হোলিতে রাস্তায় রং ছেটানো হয়। তাঁদের জন্য রাস্তায় যানজট তৈরি হলেও কেও বিরোধীরা করে না। তাঁদের আটকানো যায় না। কিন্তু আমরা যদি বিরোধিতা করি তাহলে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়।” তিনি আরও বলেন, “জুম্মার দিন রাস্তায় ৫ মিনীট নামাজ পড়তে দেওয়া হয় না”। মৌলানার প্রশ্ন, নিষেধাজ্ঞা শুধু সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে কেন?
বাংলা মুসলিমদের জন্য নিরাপদ বলেছিলেন মৌলানা
প্রসঙ্গত, এর আগে কলকাতার একটি সভা থেকে পশ্চিমবঙ্গ মুসলিমদের জন্য ‘নিরাপদ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন মৌলানা জারজিশ আনসারি (Maulana Jarjis Ansari)। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “উত্তরপ্রদেশে মুসলিমদের (Muslim) পরিস্থিতি ভয়াবহ। যেকোনও অনুষ্ঠান, কার্যকলাপের জন্য অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। অথচ অনুমতি চাইতে গেলেও পাওয়া যায় না।”
তিনি আরও বলেন, “একের পর এক মাদ্রাসা, মসজিদের ওপর দমনপীড়ন চলছে। বুলডোজার দিয়ে মাদ্রাসা (Madrasa) গুঁড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। দিনের বেলাতেও লাউডস্পিকার বাজানো নিষিদ্ধ”। তিনি আরও বলেছিলেন, “আমি আমার পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে কতবার বাংলায় চলে যাওয়ার কথা ভেবেছি।”


