Aaj India Desk, হাওড়া : বিধানসভা নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব ইস্যুকেই হাতিয়ার করে রণক্ষেত্রে নেমেছে বিজেপি। হাওড়ার শ্যামপুরে বিজেপির এক কর্মিসভায় ফের এই ইস্যু তুলে সরাসরি শাসানি দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)।
‘বাংলাদেশি’ ইস্যুতে সরব
শুক্রবার রাতে বিজেপির কর্মিসভা থেকে শমীক (Shamik Bhattacharya) বলেন, “আমরা বাংলাদেশিদের খুঁজে বের করতে নেমেছি। চিহ্নিত করব, সরাব, তারপর তাদের নিজ দেশে পাঠাব।” তাঁর দাবি, অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে এই পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, দেশের সম্পদ ও জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক উদ্যোগ বাড়াতে হবে।
ভোটারদের উদ্দেশে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, “যাঁদের বিজেপি চিহ্নে ভোট দিতে অসুবিধা হয়, তাঁরা বাম হাত দিয়েও বোতাম টিপুন, কিন্তু বিজেপিকেই ভোট দিন।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি দলীয় সমর্থন বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি সভা থেকে Forward Bloc-কে কটাক্ষ করে শমীক বলেন, “সিপিএমের সঙ্গে থাকতে থাকতে বাঘ এখন বিড়াল হয়ে গেছে।” একইসঙ্গে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ২৯৪টি আসনে প্রার্থী দেওয়াকে তিনি “দুর্ঘটনা” বলে উল্লেখ করেন।
কর্মসংস্থান ও পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যু
মুর্শিদাবাদ অশান্তি প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এটি দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গকে আলাদা করার একটি চক্রান্ত। তাঁর দাবি, যাঁরা অতীতে বিভিন্ন স্থানে অশান্তি তৈরি করেছেন, তাঁরাই এই ঘটনার পিছনে রয়েছেন। একই সাথে এই দিন বাংলার কর্মসংস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথা অনুযায়ী, শ্যামপুর ও দাসপুরের বহু মানুষ সুরাটে কাজ করেন। যদি সেখানে বাঙালিদের থাকতে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে স্থানীয়দের জীবিকা সমস্যায় পড়বে। এই প্রেক্ষিতে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তবে শ্যামপুরের সভায় শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya) মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। নাগরিকত্ব বা ‘বাংলাদেশি’ চিহ্নিত করার মতো বিষয়গুলি আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার আওতায় পড়ে, যা আদালত ও সংবিধান নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হওয়া উচিত। তাই রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে এমন বক্তব্য দেওয়াকে অনেকেই অতিরঞ্জিত বা বাস্তবায়নযোগ্যতার প্রশ্নে দেখছেন। নির্বাচনের সময় এই ধরনের বক্তব্যকে বিরোধীরা নির্বাচনী মেরুকরণের কৌশল হিসেবেও ব্যাখ্যা করছে। তাঁদের মতে, উন্নয়ন বা কর্মসংস্থানের মতো ইস্যুর বদলে আবেগঘন ও বিভাজনমূলক প্রসঙ্গ তুলে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে মতভেদ স্পষ্ট।


