স্নেহা পাল, কলকাতা : সীমান্তে নিরাপত্তা না মানুষের অধিকার এই দুইয়ের মাঝখানে রাজ্য কোথায় দাঁড়াবে?এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই বৃহস্পতিবার বিধানসভায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
রাজ্যপালের ভাষণের পর আলোচনায় অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর জন্য জমি দিতে রাজ্যের কোনও আপত্তি নেই। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আগে দেওয়া জমিতে কাজ শেষ না করেই নতুন করে জমি চাওয়া যুক্তিযুক্ত নয়।
মমতার বক্তব্য, রাজ্য ইতিমধ্যেই BSF-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থাকে পর্যাপ্ত জমি দিয়েছে। রেল, প্রতিরক্ষা এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় দপ্তরগুলিকেও জমি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে কেন্দ্র ও বিজেপি অসম্পূর্ণ তথ্য তুলে ধরছে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর জন্য জমি দিতে পারেন তবে তার আগে কেন্দ্রকে অবশ্যই BSF এর বিচারাধীন এলাকা ১৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করার “একতরফা ও স্বেচ্ছাচারী” সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলয়ের ফলে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অনুপ্রবেশ ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের অভিযোগ তুললে মুখ্যমন্ত্রী তা খারিজ করেন। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, তারা শুধু ‘অনুপ্রবেশ’ শব্দটাই বোঝে। সেই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, এই পরিস্থিতিতে নতুন ভোটাররা আদৌ নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন কি না।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিজেপির আসন সংখ্যা আরও কমবে। পাশাপাশি রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজের উল্লেখ করে জানান, কেন্দ্রের অপেক্ষা না করে রাজ্য সরকার নিজের উদ্যোগেই ১,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করেছে।
তবে সীমান্তে বেড়া, BSF-এর ক্ষমতার পরিধি এবং জমি বরাদ্দ এই তিনটি বিষয় ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


