কলকাতা: বকেয়া ডিএ মেটানোর দাবীতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ধর্মতলা থেকে ধর্মঘটের (DA Strike) ডাক দিয়েছিল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ (Sangrami Joutha Mancha) সহ একাধিক সরকারি কর্মচারী সংগঠন। শুক্রবার সকালে সেই ধর্মঘট ঘিরেই কলকাতার খাদ্য ভবনের সামনে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াল। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ সহ বেশ কিছু আন্দোলনকারী খাদ্যভবনের সামনে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
অভিযোগ, কর্মচারীদের অফিসে ঢুকতে বাধা দিচ্ছেন ধর্মঘটি কর্মচারীরা। অন্যদিকে, ভাস্কর ঘোষদের পাল্টা বক্তব্য, কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি। “আমরা শুধুমাত্র রাজ্যটাকে বাঁচানোর জন্য এই ধর্মঘট (DA Strike) করছি। এই ধর্মঘট কর্মচারীদের স্বার্থে। আপনার বিবেকের কাছে আমরা আবেদন জানাচ্ছি, এই ধর্মঘটে শামিল হয়ে সরকারকে বলুন, রাজধর্ম পালন করতে”।
“আইপ্যাকের লোকের” বাধা?
খাদ্য ভবনের সামনে ভাস্কর ঘোষদের স্লোগান চলাকালীন একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি এসে বাধা দেন বলে অভিযোগ। ফেসবুক লাইভে ভাস্কর ঘোষ দাবী করেন, ওই ব্যক্তি কোনও দফতরের কর্মী নন, বরং’আইপ্যাকের লোক’। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের (Sangrami Joutha Mancha) অন্যতম আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “এরা কাটমানি-সিন্ডিকেটের অংশীদার, ধারক-বাহক। এরা কোনও কর্মচারী নয়! এরা আইপ্যাকের লোক। সব দফতরে ছায়ার মত আছেন”। তিনি আরও বলেন, “খাদ্যভবনে প্রচুর পরিমাণে এই ধরণের লোককে ঢোকানো হয়েছে, যারা পুরো কার্যপ্রণালীকে নিয়ন্ত্রণ করেন।”
কামাই করলেই “শো-কজ”
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার স্কুল, কলেজ, অফিস, সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলেই সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে নবান্ন (Nabanna)। অর্থ দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এদিন সব রাজ্য সরকারি ও সরকার-পোষিত দফতর খোলা থাকবে এবং পূর্ণ বা অর্ধদিবসের ছুটি গ্রাহ্য করা হবে না।
তবে আচমকা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু, দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, আগে থেকে নেওয়া চাইল্ড কেয়ার লিভ, আর্নড লিভ বা চিকিৎসাজনিত ছুটি—এই সব ক্ষেত্র নির্দেশিকার বাইরে রাখা হয়েছে। এর বাইরে কেউ ওই দিন ছুটি নিলে শো-কজ নোটিসের মুখে পড়তে হবে।জবাব সন্তোষজনক না হলে সেই দিনের ছুটি বাতিল করা হবে, মিলবে না বেতনও। এমনকি এই দিনকে ‘ডায়েস নন’ হিসেবে গণ্য করে কর্মজীবন থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে নবান্ন।


