Aaj India Desk, মুর্শিদাবাদ : বৃহস্পতিবার মাদক পাচার সংক্রান্ত এনডিপিএস মামলায় ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) জামাই সারিফুল ইসলামকে থানায় হাজিরার নোটিস দিয়েছে পুলিশ। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলায় তাঁর ও পরিবারের একাধিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের স্ত্রী মীরা সুলতানাকেও ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এনডিপিএস আইনের মামলায় আদালতের নির্দেশের পর সারিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সম্পত্তি ক্রোকের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচারের মাধ্যমে এই সম্পত্তি গড়ে তোলা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৪টি স্থাবর সম্পত্তি এবং ১৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করে সিল করা হয়েছে। কয়েক দফায় অভিযানে হোটেল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাগানবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সহ একাধিক সম্পত্তিতে নোটিস ঝোলানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি অভিযোগের পাশাপাশি আর্থিক দুর্নীতির দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, রেজিনগরে জলাজমি ভরাট করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) স্ত্রী মীরা সুলতানাকেও সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলেছে। গণপিটিশনের ভিত্তিতে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে দফতর সূত্রে খবর।
তবে কয়েকদিন আগেও হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) দাবি করেন, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। তাঁর বক্তব্য, “একদিকে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, অন্যদিকে লালগোলা থেকে প্রার্থী করার কথা বলা হচ্ছে।” যদিও তাঁর এই দাবি নিয়ে শাসকদলের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদের লালগোলা অঞ্চল অতীতে মাদক পাচারের করিডর হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের আর্থিক সম্পত্তির হদিস মিলেছে। সারিফুল ইসলামের সম্পত্তি বৃদ্ধির উৎস নিয়েও তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত আইন মেনেই চলছে এবং আদালতের নির্দেশ অনুসারেই পদক্ষেপ করা হয়েছে।


