24 C
Kolkata
Saturday, March 21, 2026
spot_img

ধর্মের ফাস্টফুড মানুষ আর কতদিন খাবে?

                                                   SPECIAL FEATURE

সুরভী কুন্ডু: ধর্মের রাজনীতি এখন দেশজুড়ে এক প্রহসন, এর প্রতিফলন বঙ্গের মাটিতে যেনো একটু বেশিই , রাজনৈতীক রং এখন দেবতার প্রতিকৃতিতে ও ,কখনও ভবতারিণী তো কখনও বা মা দুর্গা , ঈদের উৎসবে নাটকীয় উপস্থিতি বা কেন বাদ দেবো ? ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এখন রাজনৈতিক প্রচারের মূল কেন্দ্র । মানুষ কি এতই বোকা? শিল্পের নামে পেটে লাথি এখন অতীত চার তোলা মল এখন শুধুই ধর্মের নামে রাজনীতি। ধর্মের নামে বঙ্গের মানুষ কে আর আটকে রাখা যাবে তো ? নাকি ভয় পাচ্ছে উভয় দলই !

শাসক শিবির কে বার বার দেখা যায় সংখ্যালঘুদের ঘরের মানুষ হয়ে উঠতে । পারলেন কি তিনি ? আজ সকালের নাকি বৃষ্টি উপেক্ষা করে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ে এসেছেন । ভক্তি ছিল কতটা ? নাকি শুধুই জনমুখী প্রচার ! কি ভাবছেন মানুষ বোঝে না এই সব ? অন্য দিকে বিরোধী শিবিরে দেখা গেলে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র সকাল সকাল ফুল-বেলপাতা নিয়ে হাজির কালীঘাটে স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারী । কোথাও গিয়ে কি মনে হচ্ছে না এ এক পূর্ব পরিকল্পিত প্রচারের অংশ ?

বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছে, উনি ভালো করে জানতেন আজ মসজিদে পা রাখবেন মুখ্যমন্ত্রী , বিরোধীদল কে সংখ্যালঘুদের থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা গেলেও এদের নিয়ে আদিখ্যেতা ভরিয়ে দেই শাসন শিবির , আর এটাকেই হাতিয়ার করে তিনি আজ কালীঘাটে । এটা কি উস্কানিমূলক প্রচার নয় ? ফুল-বেলপাতার এই ঘটা উপস্থিতি কি প্রমাণ করছে না ! নাকি নাটকীয় নামাজ প্রদর্শন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে না ?রাজনীতির এখন ধর্মের অংশবিশেষ।

ভোটের দিনক্ষণ ধার্য হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। আট-ঘাট বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে প্রার্থীরাও প্রচার জনমুখী হোক বা সমাজ কল্যাণমূলক তাতে কেও ধার ধারে না , লক্ষ্য এখন একটাই ভোটব্যাঙ্কে জয় লাভ । মোদী সফর ইতিমধ্যেই জটিলতা বাড়িয়েছে বেশ কিছুটা অমিত সাহা , নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যে ধর্মের রাজনীতি বাতাবরণে চিত্র প্রকাশে না এলো ও “ভাইবোন” সম্বোধনে আবেগী বার্তা বেশ কেচকেচানি ছড়িয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে , প্রশ্ন একটাই “অনুপ্রবেশকারী ” করা ?

আপাতত নজর থাক আজকের দিনের ওপরই দুই দলের দুই হাইভোল্টেজ প্রার্থীর এই সফর কি কোথাও গিয়ে সূক্ষ্ম বার্তা দিচ্ছে ? বিরোধীদল নেতা কি বুঝাতে চাইছেন? মুসলিম ভোট ছাড়াই বাংলায় ক্ষমতায় আসা সম্ভব ?উল্টো দিকে শাসক দলনেত্রীর দাবি দুবাই-সৌদিআরবের সম্প্রীতির বার্তা দিলেও বাংলার মানুষ ” অনুপ্রবেশকারী “। মধ্য কথা টা হলো ঘটনা রাজনৈতীক রং গুলো বুঝে গেছে বঙ্গের মানুষের দুর্বলতা।

মানুষ বুঝবে! তবে প্রশ্নটা হলো কবে বুঝবে ? ধর্মের রাজনীতি অনেকটা ফাস্ট ফুডের মত! কেনো বললাম এ কথা ? নিজের জীবনের সাথে মিলিয়ে দেখুন প্রথম প্রথম ফাস্ট ফুডের মজা দারুন পরে সময়ের সাথে সাথে বদহজমের জোগান ,ক্ষতিকর দিকটা নিজেই টের পান, পরে নিজের স্বার্থেই তা ত্যাগ করেন ।ধর্ম দিয়ে ভোট জেতা যায়।

ধর্ম দিয়ে ভোট জেতা যায়, কিন্তু শাসন টিকিয়ে রাখা যায় না এই কথাটাই এখন বাংলার রাজনীতির সবচেয়ে অস্বস্তিকর সত্য। মঞ্চে ধর্ম, মিছিলে ধর্ম, ভাষণে ধর্ম সবকিছুই যেন ভোটের শর্টকাট ফর্মুলা। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই আবেগের জোয়ারে ভেসে ক্ষমতায় আসার পর কি সত্যিই মানুষের পেট ভরে? চাকরি আসে? রাস্তা-হাসপাতাল ঠিক হয়? আজ যারা ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি করছে, তারা কি আগামী ৫ বছরে উন্নয়নের হিসেব দিতে পারবে? নাকি তখনও নতুন কোনও ধর্মীয় ইস্যু তুলে আবার আবেগে ভোট টানার চেষ্টা চলবে? বাস্তবটা খুব সোজা ধর্ম মানুষকে একবার উত্তেজিত করতে পারে, কিন্তু বারবার বোকা বানাতে পারে না।
বাংলার মানুষ আবেগপ্রবণ ঠিকই, কিন্তু তারা অন্ধ নয়। সময় এলে হিসেব চায় কাজের, প্রতিশ্রুতির, আর বাস্তব উন্নয়নের তাই প্রশ্নটা থেকেই যায় ধর্মের রাজনীতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা যায়, কিন্তু ক্ষমতায় টিকে থাকতে গেলে কি শেষ পর্যন্ত কাজটাই মুখ্য নয়?

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন