কলকাতা: নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ। SIR নিয়ে নির্বাচিত সরকার ও এক সাংবিধানিক সংস্থার মধ্যে তীব্র ‘অবিশ্বাস’-এর জট গিয়ে ঠেকল দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারে, আর সেখান থেকেই এল ঐতিহাসিক নির্দেশ। দোষারোপ-পাল্টা দোষারোপে উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) এই পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ নতুন মোড় এনে দিল বিতর্কে।
তবে রায় ঘিরে শুরু হয়েছে কৃতিত্বের লড়াই! শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরই দাবি করছে, আদালতের এই পদক্ষেপ তাঁদের অবস্থানকেই সঠিক প্রমাণ করেছে। ফলে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক তরজাও এখন চরমে। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) পোস্ট করেছেন, “জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার জয় হয়েছে। দাবি ও আপত্তির নিষ্পত্তিতে বিচারিক পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক করে আদালত ভোটার তালিকার পবিত্রতা। যা গণতন্ত্রের মৌল ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেছে। “এটি নিছক একটি আইনি নির্দেশ নয়, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ”, এক্সে লিখেছেন কুণাল ঘোষ।
অন্যদিকে, বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যর (Amt Malviya) বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জন্য সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ বড় ধাক্কা। নির্ধারিত সময়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা যাবে, পাশাপাশি পরবর্তী সম্পূরক তালিকাও প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, বিচারিক তদারকিতেই এবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বার্তা।” বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন সাঙ্গাওদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী অবশ্য এই সম্পূর্ণ ঘটনাকে অন্যভাবে দেখছেন। তাঁর সাফ করা, যেখানে দোষারোপ পাল্টা দোষারোপের জট কাটিয়ে নির্বাচন করানোর জন্য বিচারবিভাগের দ্বারস্থ হতে হয়, এই ঘটনা “লজ্জাজনক”!
SIR-এ জুডিশিয়াল সুপারভিশনের নির্দেশ
বস্তুত, তথ্যগত অসংগতি বা লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির কারণে নোটিশ পাওয়া ভোটারদের মধ্যে যাঁদের নথি নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি, তাঁদের ক্ষেত্রে বিচারবিভাগীয় আধিকারিক বা জেলাস্তরের বিচারকরা সিদ্ধান্ত নেবেন। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ রাজ্যের SIR জট কাটাতে বিচারবিভাগীয় আধিকারিক অথবা কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা বিচারকদের ময়দানে নামানোর বেনজির নির্দেশ দেন।


