কলকাতা: ভোট ঘনিয়ে আসতে আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)? ভবানীপুর এখন একুশের নন্দীগ্রাম ২.০। ছাব্বিশের ভোটে মমতার গড় ভবানীপুরে সম্মুখ সমরে নেমেছেন শুভেন্দু অধিকারী। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীলিপ ঘোষ রাজি না হওয়ায় হাইভোল্টেজ আসনে গেরুয়া শিবিরের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি।
প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরই মমতাকে ভবানীপুরে (Bhawanipur) ২৫ হাজার ভোটে পরাজিত করবেন, বলে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কিন্তু এখন তাঁর গলায় অন্য সুর। সাংবাদিকের ২৫ হাজার ভোটে জেতার প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “প্রথমদিন উৎসাহিত হয়ে আশা করেছি। এখন আর বলছি না। এটা জনগণের উপর ছাড়ছি”।
চাপের রাজনীতি?
প্রসঙ্গত, এর আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও বলেছিলেন, ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাপে রাখতেই প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দশবার ভাবতে হবে, তিনি নিজের কেন্দ্র ছেড়ে অন্যত্র প্রচারে যাবেন কি না।” সুকান্তর মতে এটাই ছাব্বিশের ভোটে বিজেপির মাস্টারস্ট্রোক। এখন প্রশ্ন উঠছে, তাহলে আদৌ কি ভবানীপুরে জেতার বিষয়ে ভাবছে না গেরুয়া শিবির?
“বলির পাঁঠা” শুভেন্দু?
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই কৌশলের আড়ালে আসলে ‘স্কেপগোট’ করা হয়েছে শুভেন্দুকে (Suvendu Adhikari)। এর আগেও বহুবার ভবানীপুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা। ভবানীপুরে (Bhawanipur) মমতার বিরুদ্ধে জিতলে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ হয়ে উঠতে পারেন তিনি।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরে হেরে গেলে শুভেন্দুর রাজনৈতিক কেরিয়ার বড়সড় ধাক্কা খাবে। বাংলায় বিজেপির রাশ শুভেন্দুর হাতেই রয়েছে বলে মনে করে একাংশ। সেক্ষেত্রে শুভেন্দু যদি হেরে যান, সামগ্রিকভাবে রাজ্য বিজেপির উপর তার কেমন প্রভাব পড়বে, সময় তার জবাব দেবে। যদিও, শেষ পর্যন্ত বিজেপির এই কৌশল ফলাফলে কি প্রভাব ফেলবে সেটাই দেখার।


