স্নেহা পাল, হাওড়া : বুধবার দুপুরে দুই জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের (fire incident) ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। হাওড়ার উলুবেড়িয়ার বীরশিবপুরে একটি দোকানে ভয়াবহ আগুন লাগে। এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য।
উলুবেড়িয়ার বীরশিবপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় বুধবার বিকেলে একটি দোকানে গ্যাস ওভেন সারাইয়ের কাজ চলছিল। সেই সময় গ্যাস লিক থেকে আগুন লাগে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান। দমকলের দুটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
দমকল আধিকারিক সৌমিত্র হালদার জানান, আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে দোকানের ভিতরে ছোট গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে গ্যাস ভরা হচ্ছিল। আগুন লাগার পর কয়েকটি সিলিন্ডার ফেটে যায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি।
উল্লেখ্য, বুধবার দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ মধ্যমগ্রাম স্টেশন সংলগ্ন উড়ালপুলের নীচেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (fire incident) ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে একটি মিষ্টির দোকানে আগুন লাগে। তার পিছনে কাঠের শেড ছিল। পাশাপাশি একটি সেলুন এবং আরও একটি ছোট মিষ্টির দোকান ছিল। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং একের পর এক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হতে থাকে। দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
তবে, একই দিনে রাজ্যের দুই প্রান্তে অগ্নিকাণ্ডের (fire incident) ঘটনা সামনে আসায় নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। উলুবেড়িয়ায় গ্যাস লিক থেকে আগুন এবং মধ্যমগ্রামে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ-সহ বড় অগ্নিকাণ্ড, দু’টি ঘটনাতেই প্রাথমিকভাবে গ্যাস ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে গাফিলতির ইঙ্গিত মিলছে। উৎসবের মরশুম ও ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় দাহ্য পদার্থের সংরক্ষণ, অবৈধ বা অনিয়ন্ত্রিত সিলিন্ডার ব্যবহার এবং অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামোর প্রস্তুতি জাতীয় বিষয়গুলি ফের আলোচনায় এসেছে। দমকল সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক সতর্কতা ও নিয়ম মেনে চললে অনেক ক্ষেত্রেই এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।


