Aaj India desk, শিলিগুড়ি: গ্যাসের সঙ্কটের মধ্যেই এবার গ্যাস বুকিংয়ের নিয়মে আরও কড়াকড়ি। eKYC না থাকলে আর মিলবে না গ্যাস সিলিন্ডার (Gas cylinder)-এমনই নির্দেশ দিয়েছে তেল সংস্থাগুলি। এর জেরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে শিলিগুড়ি (Siliguri) -তে গ্যাস ডিলারের অফিসের সামনে সকাল থেকেই দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। অনলাইনে বুকিং করতে না পেরে বহু গ্রাহক বাধ্য হচ্ছেন সরাসরি ডিলারের অফিসে গিয়ে সমস্যার সমাধান খুঁজতে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একটি গ্যাস সিলিন্ডার (Gas cylinder) পাওয়ার পর ২৫ দিনের আগে নতুন করে বুকিং করা যাবে না। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। বুকিং করার পরেও ডেলিভারি পেতে অন্তত ২০ দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে জানাচ্ছেন ডেলিভারি সংস্থার কর্মীরা। ফলে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি।
এর মধ্যেই নতুন শর্ত হিসেবে যোগ হয়েছে eKYC বাধ্যতামূলক। তেল সংস্থা Indian Oil Corporation এবং Hindustan Petroleum-এর তরফে জানানো হয়েছে, যেসব গ্রাহকের eKYC আপডেট নেই, তাঁদের গ্যাস সিলিন্ডার (Gas cylinder) ডেলিভারি করা হবে না। ফলে অনেক গ্রাহক অনলাইনে বুকিং করার চেষ্টা করলেও সিস্টেম বুকিং গ্রহণ করছে না।
এই পরিস্থিতিতে ডিলারের অফিসের সামনে সকাল থেকেই ভিড় জমাচ্ছেন গ্রাহকেরা। কেউ আধার কার্ড ও মোবাইল নম্বর নিয়ে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন করাতে এসেছেন, আবার কেউ জানতে চাইছেন কেন অনলাইনে বুকিং হচ্ছে না।
লাইনে দাঁড়িয়ে এক গ্রাহক জানান, “আমি সব সময় অনলাইনে গ্যাস বুকিং করি। কিন্তু এবার বুক করতে গিয়ে দেখলাম সিস্টেম নিচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে অফিসে এসে জানতে হচ্ছে সমস্যাটা কী।”
আরেক গ্রাহক নবনীতা আচার্য বলেন, “আমাদেরও গ্যাস বুকিং হচ্ছিল না। এখানে এসে শুনলাম বায়োমেট্রিক করতে হবে। কিন্তু বায়োমেট্রিক করার পরেও সমস্যা পুরো মিটছে না।”
তেল সংস্থার নির্দেশ মেনেই গ্রাহকদের eKYC করতে বলা হচ্ছে। এক ডিলার জানান, “উপরে থেকে স্পষ্ট নির্দেশ এসেছে eKYC খুবই জরুরি। কারও যদি আপডেট না থাকে, তাঁকে ডেকে এনে আমরা eKYC করাচ্ছি। তবে একসঙ্গে অনেক মানুষ অনলাইনে বুকিং করার চেষ্টা করায় প্রযুক্তিগত সমস্যাও হচ্ছে।”
বিশ্ব পরিস্থিতির প্রভাবেও জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় Iran ঘিরে সংঘাতের আবহে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সব মিলিয়ে গ্যাস (Gas Cylinder) সঙ্কটে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।


