Aaj India Desk, কলকাতা : বুধবার বরায়ণের নির্বাচনী সভা থেকে নারী ভোটারদের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রধান ইস্যু হিসেবে নারী ভোটারদের নাম বাদ পড়া তুলে ধরে সরব হন তিনি।
রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee) অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই ইস্যুকে সামনে রেখে তিনি সভা থেকে সরাসরি মহিলা ভোটারদের আবেগে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন।
গৃহস্থালির গল্পেই রাজনৈতিক বার্তা
ভাষণের বড় অংশ জুড়ে ছিল সংসারের খরচ, সঞ্চয় এবং দৈনন্দিন আর্থিক টানাপোড়েনের কথা। মমতা বলেন, নোটবন্দির সময় সাধারণ মানুষের হাতে নগদের অভাব কীভাবে সমস্যার সৃষ্টি করেছিল, তা তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি জানান, পরিবারের বাজার করার টাকাও জোগাড় করতে অনেককে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল।
নোটবন্দি থেকে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’
২০১৬ সালের সেই অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) দাবি করেন, ওই পরিস্থিতিই তাঁকে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছিল। ছোট ছোট সঞ্চয়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন, সাধারণ পরিবারের মহিলাদের কাছে অল্প টাকাও কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
চলতি বছর ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে ভাতা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমানে সাধারণ মহিলারা মাসে ১৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা ১৭০০ টাকা করে পাচ্ছেন। রাজ্য বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।
সভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা থেকে মহিলাদের নাম বাদ পড়ছে। এই ইস্যুকে সামনে রেখেই তিনি নারীদের উদ্দেশে আস্থার বার্তা দেন এবং তাদের অধিকারের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিত
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ধরনের বক্তব্য কেবল আবেগঘন স্মৃতিচারণ নয়, বরং সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তার অংশ। গৃহস্থালির দৈনন্দিন খরচ, সঞ্চয়ের অভ্যাস এবং আর্থিক টানাপোড়েন, এই পরিচিত বাস্তবতাকে সামনে এনে মুখ্যমন্ত্রী একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে নিজের সংযোগ তুলে ধরছেন, তেমনই অন্যদিকে সরকারি ভাতার সুবিধাকে সেই অভিজ্ঞতার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৬ সালের নোটবন্দির সময়কার আর্থিক অনিশ্চয়তার স্মৃতি এখনও বহু পরিবারের মধ্যে প্রাসঙ্গিক। সেই প্রেক্ষাপটে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পকে একটি নির্ভরযোগ্য আর্থিক সহায়তা হিসেবে তুলে ধরলে তা ভোটারদের মনে তুলনামূলক নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ, অতীতের সংকট বনাম বর্তমানের আর্থিক সহায়তা, এই দ্বৈত বার্তার মাধ্যমে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। তবে এই রাজনৈতিক কৌশল আদৌ কতটা কাজে আসবে সেটা ভোটের ফলাফলেই বোঝা যাবে।


