Aaj India Desk, দার্জিলিং : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র শিলিগুড়ি (Siliguri) আবারও রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত। ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে বিতর্ক, ধর্মীয় মেরুকরণের ইঙ্গিত এবং দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যাকে সামনে রেখে তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেস শিবিরের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র লড়াই।
বর্তমানে শিলিগুড়ি (Siliguri) বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২,০৩,৪০৫। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার (SIR) পর ২৩,৮১৫ জনের নাম বাদ পড়েছে বলে জানা গেছে। এই ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। সংখ্যালঘু ভোটারদের একাংশ বিজেপির বিরুদ্ধে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূলও এই অভিযোগকে সমর্থন করছে। বিজেপি অবশ্য তা অস্বীকার করেছে।
চার প্রার্থীর সরাসরি লড়াই
এবার শিলিগুড়িতে মূলত চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের গৌতম দেব, বিজেপির শঙ্কর ঘোষ (বর্তমান বিধায়ক), সিপিএম এর শরদিন্দু চক্রবর্তী ও কংগ্রেসের অলোক ধাড়ার মধ্যে।
লাল থেকে গেরুয়া
একসময় শিলিগুড়ি (Siliguri) ছিল সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি। ২০১১ ও ২০১৬ সালে অশোক ভট্টাচার্য জয়ী হন। তবে ২০২১ সালে বিজেপির শঙ্কর ঘোষ তাঁর প্রাক্তন গুরু অশোক ভট্টাচার্যকে হারিয়ে আসনটি দখল করেন। এরপর থেকেই এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক রং ধীরে ধীরে লাল থেকে গেরুয়ায় পরিবর্তিত হয়েছে।
ধর্মীয় আবহে বদলাচ্ছে রাজনীতি
সাম্প্রতিক সময়ে শিলিগুড়ির রাজনীতিতে ধর্মীয় আবহ স্পষ্ট। রামনবমী ও হনুমান জয়ন্তীতে বিভিন্ন দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ নজরে এসেছে। তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেবের ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেওয়া এবং পূজায় অংশ নেওয়া রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি করেছে।সিপিএম প্রার্থীও মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছেন, যা পরিবর্তিত রাজনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বর্তমানে শিলিগুড়ি পুরসভা তৃণমূলের দখলে। ৪৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৩টি এই বিধানসভা কেন্দ্রে পড়ে, যার মধ্যে ২৩টি তৃণমূলের হাতে। এই পরিসংখ্যান তৃণমূলকে কিছুটা এগিয়ে রাখলেও বিধানসভা স্তরে ফল ভিন্ন হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তৃণমূলের গৌতম দেব দাবি করেছেন, পুরসভা ইতিমধ্যেই বহু উন্নয়নমূলক কাজ করেছে এবং জিতলে তা আরও বাড়বে। বিজেপির শঙ্কর ঘোষ পাল্টা অভিযোগ করে বলেছেন, শহরে উন্নয়ন হয়নি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ। অন্যদিকে সিপিএম ও কংগ্রেস দুই দলই তৃণমূল ও বিজেপিকে ব্যর্থ বলে দাবি করে বিকল্প উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, তৃণমূল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও লড়াই হাড্ডাহাড্ডি। আবার সিপিএম ও কংগ্রেস কিছু ভোট কাটতে পারে, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে শিলিগুড়ি আবারও প্রমাণ করছে যে এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র। এবার এই কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফল কী হয় সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


