Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ ঘনিয়ে আসতেই রাজনৈতিক ময়দানে খাদ্যাভ্যাসকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এর মধ্যেই সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয় নতুন বিতর্ক। এরপরেই বুধবার তার পালটা জবাব দিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
তফসিলি সংলাপে অভিষেকের অভিযোগ
সোমবার নজরুল মঞ্চে আয়োজিত ‘তফসিলি সংলাপ’ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) অভিযোগ করেন, বিজেপি মানুষের ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করতে চাইছে। তাঁর দাবি, বাংলায় কে কী খাবে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে তিনি বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করে বলেন, সেই কর্মসূচিতে রান্না করা মাছ, মাংস ও ডিম পরিবেশন করা হচ্ছে।
পাল্টা মন্তব্যে বিজেপি
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। বুধবার সুকান্ত মজুমদার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “কে মাছ-মাংস খাবেন আর কে খাবেন না, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। অনেক বাঙালি ধর্মীয় কারণে নিরামিষভোজী। আবার অনেকে আমিষ খান। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।”
তিনি আরও বলেন, “অভিষেক (Abhishek Banerjee) যদি পরিবর্তন যাত্রায় মাছ-মাংস নিয়ে দাঁড়ান, আমরা একসঙ্গে বসে খেতে পারি।” তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগে অযথা বিভাজনের চেষ্টা করার অভিযোগও তোলেন। পাশাপাশি তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “ভোটের আগে ভয়ে সিঁটিয়ে আছে তৃনমূল।”
খাদ্য থেকে ভোটের মেরুকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে আবেগ, পরিচয় ও সাংস্কৃতিক প্রশ্নকে সামনে এনে ভোটের মেরুকরণ তৈরির কৌশল নতুন নয়। তবে এবার খাদ্যাভ্যাসের মতো ব্যক্তিগত ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের বিষয় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁদের মতে, এই ধরনের ইস্যু ভোটারদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলতে এবং নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর সমর্থন সংগঠিত করতে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। বিধানসভা নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হচ্ছে। খাদ্যাভ্যাসের প্রশ্নে শুরু হওয়া এই বিতর্ক আগামী দিনে কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।


