পৌলমী ব্যানার্জী, কলকাতা: পুরুলিয়ার কাশীপুর ব্লক কার্যালয়ের স্বনির্ভর বাংলা ক্যাম্পে সোমবার সকালটা ছিল অন্য দিনের মতোই। কিন্তু ভিড়ের মধ্যে এক পরিচিত মুখ হঠাৎই ফিসফাসের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। কাস্তে-হাতুড়ির প্রতীকে লড়া এক সিপিএম (CPM) নেত্রী এবার রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ (Lokkhir Bhandar)-এর লাইনে! আদর্শ বনাম অধিকার—এই প্রশ্নেই চর্চা ছড়ায় জঙ্গলমহলে।
কাশীপুরের বেকো গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঁটারাঙ্গুনি গ্রামের বাসিন্দা লক্ষ্মী রজক ২০২৩ সালের গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে সিপিএম (CPM) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও জয় পাননি, এলাকায় তাঁর সক্রিয়তা বজায় রয়েছে। সেই তিনিই সোমবার ব্লক কার্যালয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার(Lokkhir bhandar) প্রকল্পে আবেদনপত্র জমা দেন। তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট—রাজনৈতিক মতাদর্শে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব থাকলেও, নাগরিক হিসেবে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার অধিকার তাঁরও আছে।
শুধু নিজের আবেদনেই থেমে থাকেননি তিনি। একই শিবিরে উপস্থিত একাধিক তরুণীকে ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের ফর্ম পূরণে সহায়তাও করেন। স্বনির্ভর বাংলা ক্যাম্পে এদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার(Lokkhi Bhandar)ও যুব সাথী(Yuva Sathi) ছাড়াও ভূমিহীন দিনমজুরদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প এবং নদী থেকে জল উত্তোলন সংক্রান্ত সেচ প্রকল্পের তথ্য ও আবেদন গ্রহণ করা হয়।
তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তৃণমূল সরকারের প্রকল্পে আবেদন জানানোয় দলের অন্দরে কোনও প্রতিক্রিয়া হবে কি? এই প্রসঙ্গে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে গিয়েছেন লক্ষ্মীদেবী(CPM woman leader) । তাঁর কথায়, “মতাদর্শগত ফারাক থাকতেই পারে। কিন্তু সরকারি প্রকল্পের সুফল নেওয়া থেকে কেউ বঞ্চিত কেন হবে?”
কয়েকদিন আগেই পুরুলিয়ার বান্দোয়ানে বিজেপির এক মণ্ডল নেত্রী যুব সাথী(Yuva Sathi) প্রকল্পে আবেদন করে আলোচনায় আসেন। সেই ঘটনার পর ফের বিরোধী শিবিরের আর এক নেত্রীর সরকারি প্রকল্পে আবেদন নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিল।
রাজনীতির মঞ্চে মতাদর্শের লড়াই চলবেই। কিন্তু প্রশাসনিক সুবিধা ও সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্নে কি সেই রেখা ক্রমশ ঝাপসা হচ্ছে? জঙ্গলমহলের এই ঘটনাই এখন সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।


