Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ এর আগে ISF এর সঙ্গে জোট গঠনের পূর্ণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন হুমায়ুন (Humayun Kabir)। পর্দার আড়ালে চলেছিল দীর্ঘ আলোচনা। কিন্তু সেই সমীকরণ ভেঙে যাওয়ার পর এখন নতুন কৌশলে এগোতে শুরু করেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর।
শুক্রবার তিনি স্পষ্ট করে জানান, ISF এর সাথে তার জোট হচ্ছে না। তবে রাজনৈতিক সমীকরণ থেকে সরে যাচ্ছেন না তিনি। হুমায়ুন বলেন, “ISF জোটে আসছে না। তবুও নওশাদ সিদ্দিকীকে বিধানসভায় পাঠাতে চাই। কিছু কৌশল নিয়েছি, এখনই সব বলা যাবে না।” একইসঙ্গে বহরমপুরে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর জয় নিশ্চিত করতে সর্বশক্তি প্রয়োগের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর নিজের রাজনৈতিক দল গঠন করেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। কিন্তু দ্রুতই তিনি বুঝতে পারেন, একক শক্তিতে নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলা কঠিন। সেই কারণে বিরোধী শিবিরের বিভিন্ন শক্তিকে একজোট করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ISF-কে জোটে আনার উদ্যোগ ছিল সেই কৌশলেরই অংশ।
অন্যদিকে, ISF ইতিমধ্যেই বাম শিবিরের সঙ্গে আসন সমঝোতায় এগিয়েছে। নওশাদ সিদ্দিকি জানিয়েছেন, CPM-ISF যৌথভাবে রাজ্যের ২৯টি আসনে লড়াই করবে। মুর্শিদাবাদ জেলার একাধিক আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ISF। তবে ভগবানগোলা আসনকে ঘিরে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। CPM আগে থেকেই সেখানে প্রার্থী ঘোষণা করায়, ওই কেন্দ্রে বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে CPM নেতৃত্বের কাছে নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন নওশাদ সিদ্দিকি।
জোট ভেঙে গেলেও হুমায়ুন কবিরের (Humayun kabir) নতুন অবস্থান স্পষ্ট। তিনি সরাসরি জোটে না থেকেও নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলতে চান। বিশেষ করে নওশাদ সিদ্দিকি ও অধীর চৌধুরীর মতো নেতাদের ঘিরে তাঁর এই কৌশল আগামী দিনে রাজ্যের ভোট রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণে ISF-CPM এর এই ভাঙন ও হুমায়ুনের নতুন সমঝোতা আগামী দিনে ভোটের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।


