কলকাতা: SIR প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ‘তথ্যগত অসংতির’ তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি শুনানিতে (SIR Hearing) নথি জমা দিলে পরিবর্তে রসিদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের সেই নির্দেশ মানা হচ্ছে না বলে উঠল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। রসিদ চাইলে নাকি নির্দেশিকা পৌঁছয়নি বলে জানাচ্ছেন আধিকারিকরা, এমনটাই অভিযোগ উঠেছে।
শুনানি (SIR Hearing) কেন্দ্রে যাওয়া এক ভোটারের অভিযোগ, “আমার নামের বানানে ভুল থাকায় শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। শরীর খারাপ সত্ত্বেও ভবানিপুর মিত্র ইন্সটিটিউটে আমি শুনানির জন্য হাজির হই। কিন্তু প্রয়োজনীয় সব তথ্য জমা দেওয়া সত্ত্বেও আমাকে রসিদ দেওয়া হয়নি”। রসিদ চাইলে “নির্দেশিকা আসেনি” বলে জানানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই ভোটার। পরিবর্তে বিএলও তাঁর হিয়ারিং নোটিশে সই করে দেন বলে জানিয়েছেন তিনি। একই অভিযোগ খাস কলকাতাতেই। এক বৃদ্ধা ভোটার বলেন, “আমি যে শুনানিতে হাজির ছিলাম, তার তো কোনও প্রমাণ থাকলো না। পড়ে যদি ফের ডাকা হয়?”
কেন দেওয়া হচ্ছে না রসিদ?
নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক এক বিএলও জানিয়েছেন, সিনিয়রদের থেকে রসিদ দেওয়ার অর্ডার আসেনি। আমাদের কাছে এই সংক্রান্ত কোনও নির্দেশিকা নেই। সুপ্রিম কোর্ট রসিদ দিতে বলেছে জানি। কিন্তু অর্ডার না এলে আমাদের হাতে তো কিছু নেই। তাই বাধ্য হয়ে হিয়ারিং (SIR Hearing) ফর্মে সই করে দিচ্ছি।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি এসআইআর মামলার শুনানিতে বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশের রায় দেয়। রাজ্যের গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক ও ওয়ার্ড অফিসে তথ্যগত অসঙ্গতির (List of Discrepancies) তালিকা টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এছাড়াও ভোটাররা নথি জমা এবং আপত্তি জানানোর জন্য প্রতিটি ব্লক অফিসে আলাদা কাউন্টার খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়। নথি জমা হলে ভোটারকে লিখিত রসিদ প্রদান ও প্রাপ্তিস্বীকার গ্রহণ করতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় পুলিশ মোতায়েন করে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।


