স্নেহা পাল, কলকাতা: পরিসংখ্যান অনুযায়ী গোটা দেশে ৭,৯৯৩টি স্কুলে (School ) একটিও ছাত্র নেই, অথচ সেই স্কুলগুলিতেই নাকি নিযুক্ত রয়েছেন ২০,৮১৭ জন শিক্ষক। এই অবাস্তব ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় বোঝা বইছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যে ৩,৮১২টি স্কুল সম্পূর্ণ ছাত্রশূন্য যেখানে প্রায় গোটা দেশের শিক্ষকসংখ্যার সিংহভাগ রয়েছেন। অথচ বাস্তবের মাটি ছুঁলে দেখা যাবে উল্টো ছবিটাও ততটাই সত্যি।
পশ্চিমবঙ্গের অসংখ্য সরকারি স্কুলে (Government School) আজ শিক্ষক নেই, বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা নেই, ভবিষ্যৎ নেই। কোথাও একজন শিক্ষক দিয়ে পাঁচটি শ্রেণি চালানোর নাটক, কোথাও বিজ্ঞান-গণিত কার্যত তুলে দেওয়া হয়েছে। এই সাংঘাতিক বৈপরীত্য কোনও দুর্ঘটনা নয়, এটি বছরের পর বছর ধরে চলা প্রশাসনিক উদাসীনতা ও রাজনৈতিক স্বার্থপরতার ফল।
দ্বিমুখী ব্যর্থতার চাপে শিক্ষা
রাজ্য সরকার মুখে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে শিক্ষক নিয়োগ কার্যত স্তব্ধ। আদালতের দোহাই, নিয়োগ দুর্নীতির ধাক্কা আর রাজনৈতিক সুবিধাবাদের জেরে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা আজ অচল ইঞ্জিন। স্কুল আছে, বিল্ডিং আছে, শিক্ষকও আছে , কিন্তু ছাত্র নেই। আবার কিছু স্কুলে ছাত্র আছে কিন্তু শিক্ষক নেই।
তথ্য অনুযায়ী গত আড়াই বছর ধরে একটি রাজনৈতিক শর্ত চাপিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ‘সমগ্র শিক্ষা মিশন’-এর প্রাপ্য অর্থের প্রায় ৬০ শতাংশ আটকে রাখা হয়েছে। ফলত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছাত্রদের মিড-ডে মিল থেকে শুরু করে শিক্ষা পরিকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল শিক্ষার মতো মৌলিক প্রকল্প।
একদিকে কেন্দ্রের অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ, অন্যদিকে রাজ্যের প্রশাসনিক অদক্ষতা—এই দুইয়ের মাঝখানে পিষ্ট হচ্ছে বাংলার শিক্ষা। আর সেই সময়ে শাসকদল ব্যস্ত কখনও দুর্গা, কখনও মহাকাল, কখনও জগন্নাথ নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ধার্মিকতার প্রদর্শনীতে।
রাজনৈতিক ঔদাসীন্যর তলায় শিক্ষার শবযাত্রা
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয়, এই সর্বনাশের বিরুদ্ধে সমাজের প্রতিক্রিয়া প্রায় নেই বললেই চলে। অন্যান্য বিষয়ে যতটা উত্তেজনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকার মতো মৌলিক প্রশ্নে ততটাই পাথরের মতো নীরবতা বিরাজমান সমাজে।
এই পরিসংখ্যান থেকে এটা স্পষ্ট যে পশ্চিমবঙ্গ খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে ইতিমধ্যেই এক পা ঝুলিয়ে দিয়েছে। এই অবস্থায় রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আদৌ কোনো সুব্যবস্থা নেওয়া হবে নাকি শিক্ষার কফিনে আরেকটা পেরেক ঠুকে উৎসবের আলো জ্বালিয়ে রাখা হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে সাধারণ মানুষের মনে।


