Aaj lndia Desk, ঝাড়গ্রাম: ভোরের কুয়াশায় ঢাকা মাঠে ফসল দেখতে গিয়েছিলেন এক মহিলা। হাতির উপদ্রবে প্রায়ই নষ্ট হচ্ছিল ফসল, তাই সকালেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বেরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ঘন কুয়াশার আড়ালে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা হাতিকে প্রথমে টেরই পাননি। আচমকাই হাতিকে সামনে দেখে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়তে গিয়ে পা আটকে পড়ে যান। সেই সময় হাতি শুঁড়ে তুলে আছাড় মারে তাঁকে। আঘাতে শরীরের কিছুটা অংশ কাদায় গেঁথে যায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামবাসীরা দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
শনিবার সকালে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়গ্রাম জেলার খড়্গপুর বন বিভাগ (Kharagpur Forest Division)-এর অন্তর্গত কলাইকুণ্ডা রেঞ্জের সাঁকরাইল বিটের কুলঘাগরি গ্রামে। বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম মিথিলা মাহাতো। তাঁর বাড়ি কুলঘাগরি গ্রামেই। তিনি দাদা ও ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে থাকতেন এবং বিয়ে করেননি । মৃতার ভাইপো গৌতম মাহাতো জানান, প্রায় প্রতিদিনই হাতির দল এলাকায় ঢুকে ফসল নষ্ট করছে। সেই কারণেই শনিবার ভোরে জমির অবস্থা দেখতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তাঁর পিসি। কিন্তু ঘন কুয়াশার মধ্যে সামনে হাতি চলে এলেও প্রথমে কিছুই বুঝতে পারেননি তিনি। আচমকাই হাতিটি তাঁকে শুঁড়ে তুলে আছাড় মারে এবং পরে পায়ে মাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত ভাঙাগড় গ্রামীণ হাসপাতাল-এ নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ওডিশা দিক থেকে সুবর্ণরেখা নদী পেরিয়ে এবং মেদিনীপুর বনবিভাগ এলাকা থেকে কংসাবতী নদী অতিক্রম করে হাতির দল ঢুকে পড়েছে ঝাড়গ্রাম বন বিভাগ-এর মানিকপাড়া অঞ্চল হয়ে সাঁকরাইল ও ঝাড়গ্রাম ব্লকের একাধিক গ্রামে। শঙ্করবনি, দুধিয়ানালা, গোলবান্ধী, বারডাঙা, আঙারনালি, হাঁড়িভাঙা, চুলপাড়া-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় হাতির উপস্থিতিতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে গ্রামবাসীদের মধ্যে।
বন দপ্তর সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার ওডিশা দিক থেকে সুবর্ণরেখা নদী পেরিয়ে প্রায় ৪৭টি হাতির একটি বড় দল সাঁকরাইল বিটে ঢুকে পড়ে। বর্তমানে দলটি হাঁড়িভাঙার জঙ্গল এলাকায় রয়েছে।অন্যদিকে, স্থানীয়দের দাবি-গত কয়েক দিন ধরে একটি দলছুট দাঁতাল হাতি কুলঘাগরি ও হাঁড়িভাঙা এলাকায় ঘোরাফেরা করছে এবং প্রায়ই তাণ্ডব চালাচ্ছে। ওই দলছুট হাতির হামলাতেই এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ।
গ্রামবাসীদের কথায়, হাতিটি অত্যন্ত উগ্র মেজাজের হয়ে উঠেছে। মানুষ দেখলেই তেড়ে আসছে বলেও দাবি তাঁদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ওই হাতিটিকে অন্যত্র ড্রাইভ করে নিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।অন্যদিকে বারডাঙা বিট-এর দুধিয়ানালা এলাকায় শুক্রবার রাতে চার থেকে পাঁচটি হাতির একটি ছোট দল হানা দেয়। ওই হামলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে স্থানীয় কৃষকদের। বিশেষ করে আলু, বাঁধাকপি ও পেঁয়াজের চাষ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। খড়্গপুর বন বিভাগ (Kharagpur Forest Division )-এর ডিএফও মণীশ যাদব জানান, সকালে ঘন কুয়াশার কারণে এলাকায় দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম ছিল। সেই পরিস্থিতিতেই দলছুট হাতির আক্রমণে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে মৃতার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। বন দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, হাতির গতিবিধির উপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি এলিফ্যান্ট ট্রেকার্স দলের সদস্যরা এলাকায় হাতিদের গতিবিধি মনিটর করছেন, যাতে মানুষ ও হাতির সংঘাত কমানো যায়।


