Aaj India Desk, কলকাতা : আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার রাজ্যে ৮০ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতির কথা জানাল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।
কলকাতায় কমিশনের ফুল বেঞ্চের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, প্রতিটি বুথে সর্বোচ্চ ১,২০০ জন ভোটার থাকবেন, সব কেন্দ্রে থাকবে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিং এবং ভোটারদের জন্য বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র। তিনি জানান, প্রতিটি বুথে ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্স সেন্টার রাখা হবে। সেখান থেকে ভোটাররা প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি ভোটগ্রহণের দিনে প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর ভোটের হার ঘোষণা করবেন পোলিং অফিসাররা।
ভোটার সংখ্যায় অস্ট্রেলিয়া-উরুগুয়ের সমান বাংলা
নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) দাবি, পশ্চিমবঙ্গের মোট ভোটারের সংখ্যা অস্ট্রেলিয়া ও উরুগুয়ের মোট ভোটারের সমান। সেই কারণে ভোট পরিচালনায় বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপশি রাজ্যের সব ভোটকেন্দ্রে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিং করা হবে যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি বাড়ানো যায়। বয়স্ক ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রই ভূতলেই স্থাপন করা হবে।
ইভিএম যাচাই ও মোবাইল নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থা
ইভিএম নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রসঙ্গে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ভোটাররা চাইলে ভোট দেওয়ার আগে ইভিএম পরীক্ষা করতে পারবেন। পাশাপাশি গণনার সাত দিনের মধ্যে যে কোনও প্রার্থী ইভিএম যাচাইয়ের আবেদনও করতে পারবেন। এছাড়া প্রতিটি বুথের বাইরে মোবাইল রাখার আলাদা ব্যবস্থা থাকবে। ভোটাররা সেখানে মোবাইল রেখে ভোট দিতে যাবেন এবং ভোট দেওয়ার পর তা সংগ্রহ করবেন। নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ভুয়ো খবর রুখতে কড়া সতর্কতা
সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়ানো রুখতে কড়া অবস্থান নেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ভোটের সময় ভুয়ো তথ্য বা বিভ্রান্তিকর খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই এমন কোনও তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়ালে তা নজরে এলেই প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে কমিশন। এছাড়া ভোটারদের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ভোটারদের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনও খবর বা তথ্য সামাজিক মাধ্যমে দেখলেই তা যাচাই না করে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


