Aaj India Desk, কলকাতা : মালদার কালিয়াচকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের ঘেরাও ও উত্তেজনার ঘটনায় এবার CBI তদন্তের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে এ বিষয়ে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
কমিশনের কড়া পদক্ষেপ
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা দিয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশ পাওয়ার পর CBI-র একটি দল আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার সকালেই মালদায় পৌঁছে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তথ্য সংগ্রহ শুরু করবে।
সূত্রের খবর, বুধবার সকাল থেকেই কালিয়াচক এলাকায় ভোটার তালিকায় নাম না থাকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সেই ক্ষোভ গিয়ে পড়ে SIR-এর কাজে যাওয়া বিচারকদের উপর। সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে ঘিরে ফেলে কার্যত সাড়ে তিনটে থেকে রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত তাদের আটকে রাখে গ্রামবাসীদের একাংশ। তাঁদের মধ্যে তিনজন বিচারক ছিলেন, যাঁদের মধ্যে একজন মহিলা বিচারকও রয়েছেন। পরবর্তীতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে তাঁদের উদ্ধার করা হলেও ফেরার পথে গাড়িতে পাথর ছোড়া ও লাঠি দিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে।
তদন্তে CBI-কে অগ্রাধিকার
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আসে। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল চিঠি দিয়ে বিস্তারিত জানান। সেই প্রসঙ্গ তুলে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, “হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বুধবার রাতেই আমরা বিষয়টি জানতে পারি এবং রাত ২টো পর্যন্ত নজরদারি চালানো হয়।” শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট পুরো ঘটনার এনআইএ বা CBI তদন্তের নির্দেশ দেয়। তবে বিস্ফোরণের মতো কোনও সন্ত্রাসমূলক ঘটনা না থাকায় শেষ পর্যন্ত সিবিআই-কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
চালু রাজনৈতিক চাপানউতোর
ঘটনার পর থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার ঝড় বইছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কেউ বিচারকদের ঘেরাওকে নিন্দা করেছেন, কেউ স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সামাজিক ও ডিজিটাল মাধ্যমে এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে সাধারণ জনগণও আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা ভোটগ্রহণের নিরপেক্ষতা ও নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি, রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে যে ভবিষ্যতে ভোটের সময় এমন পরিস্থিতি রোধে প্রশাসনের পূর্বসচেতনতা কতটুকু কার্যকর হচ্ছে।


