স্নেহা পাল, নদিয়া: নদিয়ার রাণাঘাট থানার হবিবপুর আশুতোষপুর গ্রামে সোমবার ভোররাতে চাঞ্চল্যকর জোড়া খুন। কালোজাদু (Black Magic) ও সম্পত্তি দখলের সন্দেহে কুড়ুল দিয়ে ছেলের স্ত্রী ও তাঁর মাকে কুপিয়ে খুন করেন শ্বশুর।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম অনন্ত বিশ্বাস (প্রায় ৭০)। নিহত তাঁর ছেলের স্ত্রী শিল্পা বিশ্বাস মণ্ডল (২৭) এবং শিল্পার মা স্বপ্না মণ্ডল (৫০)। ভোররাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁদের উপর এলোপাথাড়ি কুড়ুলের কোপ মারা হয়। ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই অনন্ত বিশ্বাসের স্ত্রী মারা যান। স্ত্রীর শ্রাদ্ধ ও শান্তির কাজের জন্য বাড়িতে এসেছিলেন তাঁর ছেলের শাশুড়ি স্বপ্না মণ্ডল। সেই সময় থেকেই অভিযুক্ত অনন্ত বিশ্বাস সন্দেহ করতে শুরু করেন যে বৌমা ও তাঁর মা নাকি তুকতাক বা কালোজাদুর (Black Magic) মাধ্যমে সম্পত্তি দখল করতে চাইছেন। সোমবার ভোরে অনন্ত বিশ্বাসের ছেলে পতিতপাবন বিশ্বাস ফুল বিক্রি করতে বাড়ির বাইরে যান। বাড়ির দরজা খোলা থাকার সুযোগে পাশের ঘরে ঢুকে অনন্ত বিশ্বাস এই হামলা করেন। এলাকাবাসীর দাবি, ভোররাতে হঠাৎ চিৎকার শোনা গেলেও পরে আর শব্দ না পেয়ে কেউ বিষয়টি গুরুত্ব দেননি।
ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ছেলে বাড়ি ফিরে স্ত্রী ও শাশুড়িকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ছেলের কান্না শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন।
খবর পেয়ে রাণাঘাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাণাঘাট পুলিশ মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ ও ব্যবহৃত কুড়ুল বাজেয়াপ্ত করা হয়। অভিযুক্ত অনন্ত বিশ্বাসকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
পুলিশের অনুমান, কুসংস্কার ও পারিবারিক অশান্তির জেরেই এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাণাঘাট থানার পুলিশ।
রাণাঘাটের এই নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনা সমাজে কুসংস্কার ও তথাকথিত কালোজাদু (Black Magic) নিয়ে বাড়তে থাকা অন্ধ বিশ্বাসের ভয়াবহ পরিণতির বাস্তব উদাহরণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাব, মানসিক অস্থিরতা এবং কুসংস্কারের বিস্তার রোধে সামাজিক ও প্রশাসনিক স্তরে আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। আইন তার নিজস্ব পথে চলবে, তবে সমাজে যুক্তিবাদী চিন্তা ও সচেতনতা বাড়ানো না গেলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকেই যাবে।


