স্নেহা পাল, মালদা: ভোটার তালিকার নাম সংশোধনের শুনানি (SIR hearing) নিয়ে আবার উত্তেজনা বাংলায়। এর আগেই সুপ্রিম কোর্টে SIR প্রক্রিয়া নিয়ে একটি মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে আবার শুনানিতে হাজিরা দিতে গিয়ে ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের মুখে পড়লেন মালদার এক মাদ্রাসা শিক্ষক।
গাজোল থানার খারদাহিল এলাকার বাসিন্দা এমডি ইয়াসিন আনসারি পেশায় মাদ্রাসা শিক্ষক। তিনি কালিয়াচকের সুজাপুর নাইমৌজা হাই মাদ্রাসায় কর্মরত। স্ত্রী হালিমা খাতুন ও ন’মাসের ছেলে আরিফ হাসান থাকতেন সুজাপুরে।
বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনা ঘটে। ইংরেজবাজারের আমবাজারে বাস ধরার জন্য টোটোতে যাওয়ার সময় স্থানানী এলাকায় টোটো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় হালিমা খাতুনের। গুরুতর আহত শিশুপুত্রকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে তারও মৃত্যু হয়।কিন্তু স্ত্রী ও ন’মাসের শিশুপুত্রের মরদেহ মর্গে রেখেই তাঁকে যেতে হয় SIR শুনানি কেন্দ্রে।
ভোটার তালিকায় নিজের নামের বানান ভুল থাকায় ইয়াসিন আনসারির কাছে শুনানির নোটিস আসে। শুক্রবারেই তাঁর SIR শুনানির দিন ধার্য করা হয়।বাধ্য হয়ে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ রেখেই শুনানি কেন্দ্রে যান ইয়াসিন আনসারি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে SIR শুনানি প্রক্রিয়া ঘিরে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রশাসনিক নমনীয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। ব্যক্তিগত শোকের চরম মুহূর্তেও শুনানিতে হাজিরা দিতে বাধ্য হওয়ার ঘটনায় স্তব্ধ বাংলার মানুষ।


